পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিঠি লেখার পদ্ধতিও জানেন না

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের চিঠির কড়া জবাব দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লেখার পদ্ধতিও জানেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘আপনার মতো একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পক্ষে কোনো অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে প্রায়-অসম্মানজনক মন্তব্য করা শোভা পায় না। আশা করি ভবিষ্যতে আপনি আপনার আচরণ পাল্টাবেন।’

মমতা আরো বলেন, ‘আমি পারিকরের চিঠির ভাষা নিয়ে সন্তুষ্ট নই। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকার ও তার নীতির বিরুদ্ধেই আমার অভিযোগ।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটি মহান প্রতিষ্ঠানের (সেনাবাহিনীর) অপব্যবহার করে এমন প্রতিহিংসার রাজনীতি করা আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনে কখনো দেখিনি।’

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জরিপের প্রসঙ্গে কেউ রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিব অথবা স্বরাষ্ট্র সচিবকে জানায়নি। ভবিষ্যতে এ সব ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের উচ্চস্তরে জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে না জানিয়ে গত ১ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী বিভিন্ন টোল প্লাজায় জরিপ চালায়। এমনকি তারা টাকা তুলছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকর মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে পাল্টা দাবিতে বলেন, ‘টোল প্লাজায় সেনাবাহিনী যে জরিপ চালাবে তা রাজ্যকে অনেক আগেই জানানো হয়েছিল। আপনার অভিযোগে সেনাবাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা আপনার মতো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত নয়।’ সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করার আগে সতর্ক থাকা উচিত বলেও তিনি বলেন।

শুক্রবার ওই চিঠি হাতে পাওয়ার আগেই তা গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি বিস্মিত হচ্ছি যে, আমি চিঠি পাওয়ার আগে কী করে তা গণমাধ্যম পেয়ে গেল!’

মমতা অবশ্য ফ্যাক্সের মাধ্যমে চিঠি পাওয়ার পর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই কড়া জবাব দিয়েছেন পারিকরকে। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনার বিলাসিতা রয়েছে বলে আপনার যে ধারণা, তা আপনার দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। আমাদের নয়।’

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

print

LEAVE A REPLY