শামীম ওসমানের ষড়যন্ত্র আবারো রুখে দিলেন প্রধানমন্ত্রী!

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এর আগে নারায়ণগঞ্জে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে যে দলীয় তালিকা পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে, সেখানে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ছিল না। তারপরের ঘটনা সবার জানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রার্থী আইভীকে মনোনয়ন দেন যিনি দোয়াত কলম নিয়ে এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে পরাজিত করেছিলেন। এই পরাজয়ের বেদনা ক্ষোভ হয়ে ওসমান পরিবারে এখনো রয়ে গেছে এবং তার মনে যে বাসা বেঁধে আছে তা নিরসনে কোনো ওষুধ কাজে আসছে না। সর্বশেষ তিনি নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ড ও ৯টি রিজার্ভ ওয়ার্ডের জন্যে প্রস্তাবিত দলীয় প্রার্থীদের যে তালিকা প্রধানমন্ত্রীর পাঠিয়েছিলেন, তাতে তিনি উল্লেখ করেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এ নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয়ের জন্যে এ তালিকা মনোনয়ন দেয়া প্রয়োজন। নির্বাচনটি এমন এক নির্বাচন যেখানে প্রধানবিরোধী দল ব্এিনপি অংশ নিয়েছে, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে এবং এ নির্বাচনে জয় লাভ দুটি দলের জনসমর্থন কতটা অক্ষুণœ রাখবে শুধু তাই নয়, আগামী নির্বাচনে এ নির্বাচনের ফলাফল বিশাল প্রভাব সৃষ্টি করবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এতকিছু জেনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এ প্রার্থী তালিকা বাতিল করে দিয়েছেন।

মরিয়া শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বুঝাতে চাচ্ছেন যে তিনি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিজয়কে নিশ্চিত করতে চান। এজন্যে যে সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দলের প্রতি অনুগত তিনি দেখতে পেয়েছেন তাদের বাছাইকৃত তালিকাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থেই ওই তালিকা বাতিল করেছেন। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা যিনি নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দেখভাল করছেন তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে শামীম ওসমানের দেয়া সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের ওই তালিকা সন্দেহজনক মনে হয়েছে। শামীম ওসমান ‘নিশ্চিত বিজয়’ বলাতেই প্রধানমন্ত্রী সন্দেহ করছেন নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এমন কোনো অপচেষ্টার আশঙ্কা করছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই শামীম ওসমানকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে এ নির্বাচনটি আওয়ামী লীগের ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ এবং নির্বাচনটি করছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

আইভী নারী মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রথম দলীয় টিকিটে নির্বাচন করছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ব্যাপারে আগ্রহী নন। কারণ তাদের অনেকেই নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন না। এ বার্তাও শামীম ওসমানকে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী চান নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হন। তিনি বলেছেন, কারো বিজয়ের ব্যাপারে কেউ এমন দায়িত্ব নিতে পারে না যে বিষয়টি তার পছন্দের তালিকার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। বরং প্রার্থীরা যদি ভোটারদের সমর্থন পান তাহলে তিনি বিজয় লাভ করবেন।

এবিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজি জাফরুল্লাহ বলেছেন, শামীম ওসমান তার অনুগত কাউন্সিল প্রার্থীদের তালিকা পাঠিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বলছেন, তারা নির্বাচিত হতে পারলে দলের জয় সুনিশ্চিত হবে। তবে তাকে আমরা জানিয়ে দিয়েছি দল কাউন্সিলরদের ব্যাপারে চিন্তা করছে না। ওয়ার্ডগুলো থেকে অনেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত। কাউন্সিলরদের জন্যে কাজ করা দলের পক্ষেও সম্ভব নয়। তাদের নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। কারণ তারা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছে না।

তবে এব্যাপারে শামীম ওসমান মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেছেন যা বলার তা পরে বলবেন। পরে তার সঙ্গে বার বার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

print

LEAVE A REPLY