চলে গেলেন কুরআনের পাখি ক্বারী উবায়দুল্লাহ

ঢাকা: চলে গেলেন খ্যাতিমান কারী, চকবাজার শাহী মসজিদের সাবেক খতীব মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ। (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তিনি রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গিরচরের বাসায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ২ ছেলে, ৬ মেয়ে, স্ত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন। বুধবার বাদ জোহর ২টা ৩০ মিনিট জাতীয় ঈদগাহে তার নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা গ্রামে জন্ম এই মনীষীর। জামিআ কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসায় থেকে ১৯৬২ সালে দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন।

শিক্ষা সমাপনী শেষে লালবাগ মাদরাসায় শিক্ষকতা দিয়ে জীবন শুরু করেন। আর এ বছরেই রেডিওতে প্রথম মধুর সুরের ঝংকার তোলেন। তার খ্যাতি ছড়াতে থাকে সর্বত্র।

স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে যার কণ্ঠে প্রথম পবিত্র কুরআনের সুর বেজে উঠেছিলো, যার সুললিত কন্ঠে তেলাওয়াত শুনে মুগ্ধ হতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

পার্লামেন্টের শুরুর অধিবেশন থেকে নবম পার্লামেন্ট পর্যন্ত জাতীয় সংসদকেও কুরআনের তিলাওয়াতে বিমোহিত করে রেখেছিলেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বেতার ও সেই ক্বারী উবায়দুল্লাহ আর নেই। এদেশে তার অবদান কখনো ভোলার নয়।

২০০০ সালে কারী উবায়দুল্লাহ প্রথম হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থও হয়ে উঠেন। তারপর ২০০৬ সালে ঢাকার বাইরে এক মাহফিলে যাওয়ার পথে ব্রেন স্ট্রোকের শিকার হন। এ সময় চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে কোলকাতায় চিকিৎসা দেওয়া হলে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেন।

২০০৮ সাল থেকে পরপর তিনবার ব্রেনস্ট্রোকের শিকার হন। ২০১২ তে সর্বশেষ ব্রেনস্ট্রোকের শিকার হয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চড়ের বাসায় অসুস্থ অবস্থায় বিছানাতেই ছিলেন মৃত্যু পর্যন্ত ।

print

LEAVE A REPLY