আইভি’র জয়ের ১১ কারণ

আইভি জিতেছেন বড় ব্যবধানে। তার জয়ে কি কি বিষয় ভূমিকা রেখেছে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হল:

# আইভির ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও ইতিবাচক ইমেজ

ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভির প্রোফাইল অনেক সমৃদ্ধ। তার পারিবারিক রাজনৈতিক বিরাট ঐতিহ্য আছে। একই সাথে দুর্নীতি অপরাধ ইত্যাদির সাথে তার সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ইতিবাচক ইমেজ রয়েছে।

# আগের বারের উন্নয়ন কর্ম

আগে একবার পৌরসভার মেয়র এবং প্রথম সিটি নির্বাচনে মেয়র হয়ে উন্নয়ন কর্মের মনোযোগী ছিলেন আইভি। শামীম ওসমান পরিবারের ব্যাপক বাঁধা সত্ত্বেও যতটুকু পেরেছেন এলাকার উন্নয়ন করেছেন। এটি তার পক্ষে ভোট বৃদ্ধি করেছে।

# ক্ষমতাসীন দলে থাকার সুবিধা

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হওয়ার কারণে সরকারি নানা সুবিধা পেয়েছেন আইভি। প্রশাসন তার প্রচারণায় ছিল প্রথম সহযোগী। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীর সাথে ছিল প্রশাসনের বিমাতাসূলভ আচরণ। একই সাথে সরকারের অনুগত মিডিয়ার একচেটিয়া প্রচারণাও ছিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন সে ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

# ওসমান পরিবারের বিকল্প হতে পারার সক্ষমতা

নারী হলেও পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী গডফাদার ওসমান পরিবারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো সক্ষমতা আইভির আছে, যেটা তিনি গত কয়েক বছরে প্রমাণ করেছেন। তার সাথে যোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ আশীর্বাদ। ওসমান পরিবারকে চ্যালেঞ্জ করে নারায়ণগঞ্জের আইন শৃঙখলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয়ার ক্ষেত্রে সাখাওয়াতের চেয়ে আইভি বহুগুন এগিয়ে ছিলেন। এটি তার জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

# নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি

স্বাধীনতার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে সেখানে ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতবেন তা তেমন বিস্ময়ের কিছু নয়।

# সাখাওয়াত একদম নতুন প্রার্থী

বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আইভির তুলনায় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরিচিততে বহুগুণ পিছিয়ে আছেন। বছর দুয়েক আগেও সাখাওয়াত কোনো পরিচিত মুখ ছিলেন না। সাত খুনের মামলার আইনজীবী হিসেবে তার লাইম লাইটে আসা। এই অল্প দিন ভোটারদের কাছে পরিচিত হওয়ার বা আস্থা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়। তার চেয়ে ভাল প্রোফাইলের কাউকে প্রার্থী করলে ভোটের সংখ্যা আরো বাড়তো নিঃসন্দেহে।

# বিএনপি প্রার্থী জিতলে ভোটাররা লাভবান হতে পারতেন না

বিএনপি প্রার্থী জিতলে ভোটারদের লাভ কিছুই হতো না। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে এই লাভক্ষতির হিসাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাখাওয়াত জিতলে বলেই দেয় যায় যে, সরকার তাকে মামলায় জড়িয়ে বরখাস্ত করতে বেশি দিন নিতো না। আবার বরখাস্ত না করলেও তার উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করতো। এতে চুড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন স্থানীয় মানুষ। ফলে অনেকেই পছন্দ করা সত্ত্বেও সাখাওয়াতকে ভোট দেননি।

# হতাশা ও আস্থাহীনতায় বিএনপির অনেকে ভোট দেয়নি

গত সিটি নির্বাচনে ভোট কাস্ট হয়েছিল ৬৯ শতাংশ প্রায়। এবার সেই হার ৬৪ শতাংশ। তার মানে ভোট দিতে যায়নি হাজার হাজার মানুষ। ধারণা করা যায় এদের বেশিরভাগই বিএনপির ভোটার। দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে আসলে লাভ কী? এমন হতাশা থেকেই তারা কেন্দ্রে যাননি। অন্যান্য সিটিতে নির্বাচিত বিএনপির মেয়রদের দুরাবস্থার কথা তাদের সামনেই তো আছে।

# ক্ষমতাসীনদের চক্ষুশূল হওয়ার ভয়েও অনেকে কেন্দ্রে যাননি

আবার অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনের শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন না, কিংবা এলাকাছাড়া ছিলেন। তারা ভয়ে ছিলেন, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকায় ভোট দিতে গিয়ে খামাখা ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডারদের চক্ষুশূল হবেন কেন?

# গণসংযোগে বিএনপি পিছিয়ে ছিল মামলার কারণে

হামলা মামলার কারণে প্রথম থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রচারণায় অংশ নিতে ভয় পাচ্ছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচনের দিনও বিএনপির এজেন্টরা ভয়ে সেন্টারে যাননি। সংবাদমাধ্যমে সেই খবর এসেছে।

# আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করবে না- বিএনপি ভাবতে পারেনি

বিএনপির দুর্বল প্রার্থী দেয়া, প্রচারণায় ঘাটতি ইত্যাদি থেকে বুঝা যায় দলটি ধরেই নিয়েছিল যে, আগেরগুলোর মতো আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির নির্বাচন হবে এটিও। ফলে তারা যথেষ্ট মনোযোগ দেয়নি। এটি আওয়ামী লীগের জন্য শাপেবর হয়েছে।

print

LEAVE A REPLY