জামায়াতকে ছাড়বে না বিএনপি

আইনি প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত ২০-দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কোনোক্রমেই ছাড়বে না বিএনপি। আর দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও কোনো না কোনো কৌশলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা বিএনপির সঙ্গেই থাকবেন।

প্রয়োজনে নিজেদের অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জামায়াত নেতারা বিএনপির ব্যানারে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। জামায়াতে ইসলামীর নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক সদস্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারই দলটিকে বাদ দিতে পারে। বিএনপির এ নিয়ে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ দলটির রাজনীতি যদি একেবারে নিষিদ্ধও করা হয়, তাহলেও তারা ক্ষমতাসীনদের ভোট দেবে বলে আমি মনে করি না।

জানা গেছে, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ অপবাদ ঘাড়ে থাকা জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন হারানোর পর অতি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাদের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা’ও হারিয়েছে। বাকি আছে শুধু উচ্চ আদালতে দলটির নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে হয় নতুন কোনো দলের নামে ইসির নিবন্ধন নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অন্যথায় কৌশলে সবাই বিএনপির হয়েই আপাতত কাজ করবে। বিশেষ করে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তারা জোটের পক্ষে থেকেই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। জামায়াত নেতারা প্রয়োজনে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ মার্কা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং অন্যান্য এলাকায় বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাবেন। নির্বাচনের পর সময়-সুযোগ বুঝে নতুন কোনো নামে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে আবারও নিজস্ব রাজনীতি শুরু করবে দলটির নেতা-কর্মীরা। এটাকে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুসারে এক ধরনের দলীয় সংস্কার হিসেবেই মেনে নেবেন তারা। এ জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা মানসিকভাবেও প্রস্তুত রয়েছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রশ্নে সার্চ কমিটি গঠনে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপে জামায়াতকে ডাকা হয়নি। এ প্রসঙ্গে দলটির আমির মকবুল আহমাদ জামায়াতে ইসলামীকে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপে তার দলের অংশগ্রহণের সুযোগ দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, জামায়াত একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে জামায়াতের নিবন্ধন মামলাটি বিচারাধীন আছে। স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় সংসদে বারবার জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপে অংশগ্রহণ করার অধিকার জামায়াতের রয়েছে। তাছাড়া জামায়াত বাংলাদেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই অংশ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সার্চ কমিটি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানান মকবুল আহমাদ।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানান, জামায়াতে ইসলামী সবসময় বাস্তবতাকে উপলব্ধি করেই সিদ্ধান্ত নেয়। দলের যে সব প্রবীণ নেতা তাদের ভাষায় ‘বিচারের নামে অবিচারের’ শিকার হয়ে চলে গেছেন, তাদের তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু প্রতিকূল এই পরিবেশে দলীয় আদর্শের রাজনীতিকে কোনো না কোনোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। টিকে থাকতে হবে এ প্রজন্মের নেতা-কর্মীদের। তাছাড়া দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যে কোনো উপায়ে ধরে রাখতে হবে ২০-দলীয় জোটের ঐক্য। যে যা-ই বলুক বিএনপি ও জামায়াতের ঐক্য যে কোনো প্রতিকূল অবস্থায় যে কোনো কৌশলেই অটুট থাকবে বলে মনে করেন জামায়াতের এই নেতা। বিএনপি জোটে জামায়াতে ইসলামী থাকবে কিনা! এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হলে তো জামায়াত কোথাও থাকবে না। আর নিষিদ্ধ না হলে তো তারা ২০-দলীয় জোটে আছেই। এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কোনো প্রয়োজন আছে কি? তিনি বলেন, শুধু জামায়াতের রাজনীতি নয়, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিএনপির রাজনীতি বন্ধ করারও ষড়যন্ত্র চলছে। চক্রান্ত হচ্ছে জোট ভাঙার। কিন্তু অতীতেও এ ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ বিএনপি হলো গণমানুষের দল।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

print

LEAVE A REPLY