আমার দেশ পত্রিকার প্রেস খুলে দিতে আদালতে আবেদন

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রেস খুলে দেয়ার জন্য ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি আবেদন করেছেন পত্রিকাটির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

বুধবার দুপুরে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে তিনি এই আবেদন করেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শরফুজ্জামান আনসারী আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে আদেশ দিবেন বলে জানান।

এর আগে তিনি ২৩ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান।

২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে পত্রিকাটির প্রেস সিলগালা করে দেয়।

দীর্ঘ ১৩১৯ দিন কারাভোগ করেন মাহমুদুর রহমান। এর আগে ২০১০ দী্ঘে ১০ মাস কারাভোগ করেন আলোচিত এই কলম সৈনিক। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সম্পাদকের এতো বেশিদিনের কারাভোগের ঘটনা এটিই প্রথম।

৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল রাখে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

৩১ অক্টোবর সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।

এর আগে মাহমুদুর রহমানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার জামিন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেন।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং মাহমুদুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ মাহমুদুর রহমানকে জামিন দেন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

চলতি বছর ১৮ এপ্রিল ওই মামলায় ঢাকার সিএমএম আদালতে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত পরে ২৫ এপ্রিল এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

অপরদিকে মাহমুদুর রহমানের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। তবে সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ। পরে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান। হাইকোর্ট তার জামিন প্রশ্নে এর আগে রুল জারি করেছিল। সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মাহমুদুর রহমানের নামে ওই মামলাসহ অন্তত ৭০টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যসব মামলায় এর আগেই জামিন নিয়েছেন তিনি।

print

LEAVE A REPLY