সাংবাদিক শিমুল হত্যার পর মেয়র পলাতক

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলকে গুলি করে হত্যার পর পালিয়ে গেছেন শাহজাদপুর পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু।

বৃহস্পতিবার মেয়রের শটগানের গুলিতে আহত হওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে সমকালের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি শিমুল মারা যান। এরপর থেকেই মেয়র পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার দিন পুলিশ মেয়রের ছোট ভাই হাকিমুল হক পিন্টু ও হাবিবুল হক মিন্টুকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার রাতে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিক শিমুল ও তার নানি রোকেয়া বেগমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পেশাজীবী ও সংবাদকর্মীসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ শরিক হন।

জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলিমুন রাজিব, ওসি রেজাউল হক, সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম, সমকালের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক তপন দাস, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফজল এ খোদা লিটন ও শিমুলের ছোট ভাই আজাদ বক্তব্য রাখেন।

সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন বলেন, সাংবাদিক শিমুল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রকাশ্যে দিবালোকে মেয়রের ছোড়া গুলিতে আহত হন। শাহজাদপুরবাসী সবসময়ই শান্তিকামী, তারা সন্ত্রাস পছন্দ করে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) আবুল হাসনাত বলেন, মেয়রকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি তার শর্টগান থেকে গুলি ছোড়েন। ৪৩ রাউন্ড গুলিসহ ওই শর্টগানটি জব্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, জানাজা শেষে শিমুলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মাদলা-কাকিলাবাড়ী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে সাংবাদিক শিমুল হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকদের ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। ছাত্রলীগ এ হরতালের সমর্থন জানায়।

শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শাহজাদপুর পৌর এলাকার অফিস আদালত দোকান-পাট, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

হরতাল চলাকালে উপজেলা সদরে রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় বিভিন্ন রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে হরতালকারীরা।

সাংবাদিক, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাড়াও স্থানীয়রা কালো ব্যাজ ধারণ করে মোড়ে মোড়ে অবস্থান করেন।

উপজেলা ছাড়াও জেলা পর্যায়ের গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এদিকে পৌর মেয়রের গুলিতে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর  প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলের মৃত্যুতে তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব। শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফজল-এ-খোদা লিটন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- প্রেসক্লাবে তিনদিন কালো পতাকা উত্তোলন, সাংবাদিকদের কালো ব্যাজ ধারণ এবং প্রতিবাদ সমাবেশ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শাহজাদপুর পৌর মেয়রের শটগানের গুলিতে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান। তার মৃত্যু সংবাদ শুনে নানি রোকেয়া বেগম (৭০) ওই দিন সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

print

LEAVE A REPLY