কিশোরগঞ্জে বাড়ছে কেঁচো সারের ব্যবহার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় (ভার্মি কম্পোস্ট) কেঁচো সার উৎপাদন বেড়েই চলেছে। চাষীদের  মাঝে এর চাহিদা দিন দিন  ব্যাপকহারে  বাড়ার কারনে ও উৎপাদনের সহজ কৌশল, গনগত মান ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর না হওয়ায় এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় চাষিরা  এ সার উৎপাদনে ঝুঁকছেন। গত কয়েক বছরে এ সার উৎপাদনের সফলতা দেখে এলাকার চাষিরা  আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আর এ কাজে চাষিদের সহযোগিতা করছেন মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম ম্যানেজমেন্ট কম্পোনেট (আইএফএমসি) ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ব্লকে সমিতির মাধ্যমে চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে  কেঁচো সার তৈরি করার জন্য  প্রথমে ৮০ জন চাষিকে  পরামর্শ দিয়ে প্রত্যেক চাষির মাঝে ১৫০টি করে  কেঁচো সরবরাহ করা হয়।
তারা নিজেরাই সার তৈরি করে নিজেদের জমিতে ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। এদের দেখাদেখি আরো প্রায় ২২০ জন চাষি এ সার উৎপাদনে উদ্যোগী হয়েছেন। তাছাড়া উপজেলাজুড়ে প্রায় দুই হাজার কৃষক কেঁচো সার ব্যবহার করছে।
কেঁচো সার উৎপাদনে স্বাবলম্বী চাষি পুটিমারী ইউনিয়নের খানাপাড়া গ্রামের লালু প্রসাদ। তিনি ২০১৪ সালে মার্চ মাসে ওই ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেলাল হোসেনের মাধ্যমে রংপুর থেকে মাত্র ৪০০ টাকায় ২৫০টি কেঁচো কিনে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তার কেঁচোর সংখ্যা ৪০ হাজার । তিনি নিজের দুই বিঘা জমিতে এ সার ব্যবহার করেন। প্রথাগত সার ব্যবহার করে অন্য যে সবজি ফলান, কেঁচো সার ব্যবহার করেও তার উৎপাদিত সবজি গুণে মানে অনেক ভালো। লালু  প্রসাদ তার উৎপাদিত কেঁচো সার শুধু নিজের জমিতে ব্যবহার করেন না। উৎপাদিত অবশিষ্ট সার বিক্রি করে মাসে আয় করেন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। লালু প্রসাদের এ সফলতা দেখে ওই এলাকার চাষি নাজমুল হক, বকুল হোসেন, আমীর আলীসহ শতাধিক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে এ সার উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েছেন।
কেঁচো সার উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, এ সার ব্যবহারে উৎপাদিত ফসল মানুষের জন্য নিরাপদ ও ফলন ভাল হওয়ায় তারা এ সার ব্যবহার করেন।

print

LEAVE A REPLY