শ্রমিক বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ সারাদেশ, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে সরকার নির্বিকার

ঢাকা: পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের লাগাতর ধর্মঘটে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে সারাদেশ। রাজধানীর গাবতলীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে খণ্ডযুদ্ধ চলছে। বিক্ষোভ, ভাংচুর-হামলা, অগ্নিসংযোগ আর সংঘর্ষে দেশের সর্বত্রই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

এক্ষেত্রে সরকার নির্বিকার হয়ে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমসিম খাচ্ছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রমিকরা পুলিশের ব্যারাকে ও গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় দিনে গাবতলীতে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্যসহ আরো বেশ কয়েকজন শ্রমিক।

এছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

এদিকে বুধবার সকালে দেশব্যাপী চলমান পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রিটের ওপর দুপুরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, নৌসচিব ও আইজিপিসহ ১৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী মনজিল মোরসেদ বলেন, সারাদেশে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে পরিবহন ধর্মঘট নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থী। তাই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।

রিটে গাড়ি রাস্তায় না নামালে মালিকদের গাড়ি জব্দ ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহারের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়েছে সারাদেশ। পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ পরিবহন বন্ধ করে দেয়ায় জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে পুলিশ-শ্রমিকদের কয়েক দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে একজন মারা গেছেন বলে জানা যাচ্ছে। সংঘর্ষের পর এখন সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এরআগে, গাবতলীতে সংঘর্ষে শাহআলম নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। শাহআলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। গুরুতর আহত শাহআলমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তি শাহআলম কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে টার্মিনাল এলাকায় আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রায় সরিয়ে দিয়ে টেকনিক্যাল মোড় থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে র‌্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।

বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাবতলী এলাকায় দাঙ্গা পুলিশকে নিয়ে অভিযানে নামে র‌্যাব ও পুলিশ। তার আগে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

দুই চালককে দেয়া আদালতের রায়ের প্রতিবাদে এবং তাদের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। ওই দুই চালক মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ধর্মঘটের প্রথমদিন রাজধানীর গাবতলীতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে বাধা উপেক্ষা করে শ্রমিকরা পুলিশ বক্স ও ব্যারাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

print

LEAVE A REPLY