কেরিয়ারের সেরা ম্যাচ:‌ নেইমার

হাত দুটি তোলা আকাশের দিকে। দৃষ্টিও সেদিকে। আদুর গা। শরীর জুড়ে উল্কির আঁকিবুকি। আর সেই আঁকিবুকির পরিখা পেরিয়ে বিন্দু বিন্দু আবেগ গড়িয়ে পড়ছে!‌ এ যেন অন্য এক নেইমার!‌ বার্সার অবিশ্বাস্য জয়ে তিনি ছিলেন যৌথ ভূমিকায়। গোল করা আর গোল করানো। দুই ভূমিকায় সসম্মানে উত্তীর্ণ। স্বাভাবিক ভাবেই প্রচণ্ড খুশি নেইমার। কতখানি?‌
প্রশ্ন করার আগেই জবাবটা তৈরি ছিল। বললেন, ‘‌আমার কেরিয়ারের সেরা ম্যাচ। অভিনন্দন আমার গোটা দলকে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা বিশ্বাস করেছি, এই ম্যাচটা জিততে পারি। তাই পেরেছি। এভাবেই যদি আমরা নিজেদের ওপর আস্থা রাখি, নিজেদের খেলাটা খেলতে পারি, তা হলে বার্সাকে রোখা অসম্ভব। এই ধরনের ম্যাচ জীবনে একবারই আসে। কেউ ভাবেননি, আমরা ৬ গোল দেব। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও, সেটাই করে দেখিয়েছি আমরা।’‌
খেলার শেষ বাঁশি বাজার অনেকক্ষণ পরও যেন ফুটছিলেন টগবগ করে!‌ এমন খুশির মুহূর্তে, কোনো বিতর্কিত, দুশ্চিন্তার বিষয় নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে না। কিন্তু নেইমার ওসব নিয়ে ভাবলেনই না।
তাই মেসির বার্সা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতেই, জবাব দিলেন গলার জোর বাড়িয়ে। ‘লিও চুক্তির মেয়াদ বাড়াবেই। আর এ ব্যাপারে আমার মনে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।’‌
নেইমার যখন আবেগের জোয়ারে ভাসছেন, তখন কোচ এনরিকের মনেও খুশির তুফান। নাই–‌বা থাকলেন পরের মরশুমে কোচ। তবু তার সময়ই যে গ্রেটেস্ট কামব্যাকের সাক্ষী থাকল বার্সা। এনরিকে বলেছেন, ‘‌প্রথম দফায় ০-‌৪–এ প্যারিস সাঁ জাঁ–র কাছে হারটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন, সেই সময় ঠিক কেমন লেগেছিল। বলতে পারেন, অনেকটা ভয়ের সিনেমার মতো লেগেছিল ব্যাপারটা। ভ্যালেন্টাইন্স ডে–র রাতটা আমাদের মনে ছাপ ফেলেছিল মারাত্মক। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আমরা প্রায় সবই হারিয়ে বসেছিলাম। ফিরতি লেগে তাই টেকটিক্যালি কিছু পরিবর্তন করেছিলাম খেলায়। ছেলেরা যা করল, তা হল নিজেদের ওপর আস্থা রাখার ফল। এই ম্যাচটা যখন শুরু হল, ভয়ঙ্কর টেনশনে ছিলাম। এর থেকে বেশি টেনশনে ভুগেছি মাত্র একবারই। তখন আমি নিজে খেলতাম। আমরা ঝুঁকি নিয়েছি। সেই ঝুঁকিকে কাজে লাগিয়েছি। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল, সাধারণত ম্যাচ শেষের ১০ মিনিট আগে গ্যালারি খালি হতে শুরু করে। কিন্তু এদিন একজনও মাঠের বাইরে যাননি। ফুটবলের উন্মাদনা বোধহয় এটাই। ছোট–বড় সবাই সেই উন্মাদনা আজ উপভোগ করেছে। মনে হয় না, এই ম্যাচটা কেউ ভুলবে। প্রথম লেগে হারের পর প্রচণ্ড সমালোচনা হজম করতে হয়েছিল আমাদের। তাই এই জয়টা অনুরাগীদের উৎসর্গ করছি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, ৬ গোল করতেই হবে বার্সাকে। কারণ, প্যারিস সাঁ জাঁ অত্যন্ত ভালো দল। এমন একটা রাতের অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। কঠিন পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়ার যে ক্ষমতা এই দলের আছে, তা দেখিয়ে দিল বার্সা। তবে একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, লড়াই এখনো বাকি।’‌ ‌‌

print

LEAVE A REPLY