মেয়রের আসনে আরিফুল : বিনা দোষে আমাকে ২৭ মাস জনগণের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল

সিলেট: সামিয়ক বরখাস্ত হওয়ার ২৭ মাস পর রবিবার মেয়রের আসনে বসেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় বিনা দোষে ২৭ মাস জনগণের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি সিটি কর্পোরেশনে গিয়ে পৌঁছান। এসময় তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা। এসময় আরিফ সমর্থকরা উৎফুল্ল।

দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব পালনে আমি সকলের সহযোগিতা চাই। আমি জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম, তা পূরণে কাজ করতে চাই। বিনা দোষে আমাকে ২৭ মাস জনগণের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা এমএ হক, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

উচ্চ আদালতের রায়ে মেয়র পদ ফিরে পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ সংক্রান্ত চিঠি তাদের কাছে পৌঁছায়। ফলে দুই বছর তিন মাস পর রবিবার থেকে আরিফুল হক চৌধুরী সিসিকের দায়িত্ব নিচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম আসার পর আরিফকে মেয়র পদ থেকে ২০১৪ সালে ৭ জানুয়ারি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই আদেশের বিরুদ্ধে মেয়র আরিফ রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ বছর পর তৃতীয় সম্পূরক চার্জশিটে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিসিক মেয়র আরিফুর হক চৌধুরীকে আসামি করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হলে ২৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আদালত মেয়র আরিফুলের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর মেয়র আরিফকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়।

২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি দীর্ঘ কারাভোগের পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর তিনি মেয়র পদ ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন।

print

LEAVE A REPLY