৬ এপ্রিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানবাধিকার, বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক

৬ এপ্রিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানবাধিকার, বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক হবে আগামী ৬ এপ্রিল ২০১৭ আবারো ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ শিরোনাম হতে যাচ্ছে। এবারের বিতর্ক যারা করবেন, সেই সকল এমইপিরা সকল গ্রুপ থেকে অর্থাৎ ছয়টি গ্রুপ যৌথভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, আইনের শাসন, রানা প্লাজা ও গার্মেন্টস সংস্কার, রাজনৈতিক নেতাদের বিনা বিচারে আটক, গুম, খুন, জঙ্গিবাদ, বিগত সালের ইউরোপিয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের রেজ্যুলুশনের সর্বশেষ অবস্থান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানবাধিকার ক্ষুন্ন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্ন বিদ্ধ, সকল দল মত নিয়ে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এর বিষয়ে এই মোশন এবং বিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৬টি গ্রুপের আনীত যৌথ মোশনে ১৪টি ক্যাটাগরিতে , যার সব কটি বিষয়ই মানবাধিকার, আইনের শাসন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, রানা প্লাজা, ২০১৬ সালের রেজ্যুলুশনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নেয়া ব্যবস্থাবলী পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনে বাংলাদেশের স্বক্ষরকারী দেশ হিসেবে সো-কলড হিউম্যান রাইটস` কনভেনশনে স্বাক্ষরদাতা উল্লেখ করে মোশন আনা হয়েছে। নির্ধারিত ডিবেট-বাংলাদেশ (২০১৭/২৬৪৮(আরএসপি) এবং পার্লামেন্ট ও কমিশনের রুল ১৩৫ এর অধীনে পার্লামেন্টে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ন লঙ্গন, আইনের শাসন ভুলুন্ঠিত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে এলিট ফোর্স র‍্যাব ও ডিবির নামে রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের চোখ মুখ বেধে ধরে নিয়ে পরবর্তীতে পরিবারের কাছে লাশ না দেয়া, , ইলিয়াস আলীসহ গুম ব্যক্তিদের সন্ধান ইত্যাদি দাবী নিয়ে পার্লামেন্টে এই নির্ধারিত বিতর্ক এখন বহির্বিশ্বে ব্যাপক কৌতুহলের কারন । মোশনে আনীত ১৪টি ক্যাটাগরির প্রতিটি অনুচ্ছেদে এবং যেভাবে শব্দ চয়ন করে আনা হয়েছে বিতর্কের জন্য, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিয়ে ইইউ পার্লামেন্ট যথেষ্ট ভাবে ওয়াকিবহাল হয়েই এই বিতর্ক করতে যাচ্ছে । সুনির্দিষ্ট বিষয়সমূহ পয়েন্ট আউট করে আনীত মোশনে আরো মনে হচ্ছে পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে ইতিমধ্যে সরকারের দমন পীড়নের অনেক তথ্য হস্তগত হয়েছে।কেননা পার্লামেন্টের অনেক সদস্য এখন অনেকটাই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিয়ে সন্ধিহান হয়েই এমন বিরোধীদলীয়ভাবে এক তরফা মোশন এনে বিতর্ক করতে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করলেও এমনকি আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকা ও প্রবৃদ্ধি ৭ এর ঘরে পৌছার রেকর্ড থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনীত এই সব রেজ্যুলুশনের একটিতেও সেসবের কোন উল্লেখ নেই। সরকারের ব্রাসেলস মিশন কী কাজ করছে কিংবা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ইউরোপ ডেস্ক এর মহারতিরা কি কাজ করছেন- প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা, ছয়টি গ্রুপের এই শতাধিক এমইপিদের একটি গ্রুপের রিজ্যুলোশনে বাংলাদেশের এই তিনটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতির কোন শব্দ ভুলেও নেই- যেন তাদের অজানা। কেননা ১-১৪ পর্যন্ত সবকটাই বিরোধীদলের বক্তব্যের অনুরুপ । এখন দেখার বিষয় ৬ এপ্রিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্ক করে কি রেজুলোশন পাশ করে।

print

LEAVE A REPLY