কাশ্মীরের পরিস্থিতি বেগতিক, ফের শান্তি আলোচনা চায় মোদী সরকার

কাশ্মীর: গেল কয়েক দিন থেকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতাকামীদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনীর নির্যাতনে ফের ফুঁসে উঠেছে গোটা জম্মু-কাশ্মীর। চারদিকে প্রতিরোধের ডাক। এতে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে নিরাপত্তা বাহিনীও। এরই মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফের শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে সম্পন্ন হল এক পর্যালোচনা বৈঠক। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও সংশ্লিষ্ট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত দেশের প্রথম সারির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিশদে জানানো হয়, কাশ্মীরে এই মুর্হূতে কী জটিল পরিস্থিতি চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে শান্তি ফেরানো সম্ভব কী না-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানের আওতার মধ্যে কেন্দ্র সকলের সঙ্গে কথা বলতে তৈরি। কিন্তু এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি। এ পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা যায়নি, যাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে এই হিংসা বন্ধ হওয়া সম্ভব।

এ দিকে পুলওয়ামার কলেজে পড়ুয়াদের মারধরের অভিযোগ ঘিরে ফের রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কাশ্মীর। শনিবার পুলওয়ামার ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ-সিআরপিএফের চেকপোস্ট বসানোর প্রতিবাদ জানায় পড়ুয়াদের একাংশ। ফলে বাহিনীর সঙ্গে তাদের গোলমাল শুরু হয়। সংঘর্ষে ৫৪ জন পড়ুয়া আহত হয় বলে দাবি বিভিন্ন সংগঠনের।

সেই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন পথে নামে পড়ুয়ারা। মৌলানা আজাদ রোডে শ্রীপ্রতাপ কলেজের কাছে মিছিল বের করে এক দল পড়ুয়া। তাদের বাধা দেয় পুলিশ। ফলে শুরু হয় পাথর ছোড়া। পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে বাহিনী। কিছুক্ষণ পরেই কাছের মহিলা কলেজ ও শহরের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিক্ষোভ শুরু হয়।

খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিক্ষোভ ছড়ায় গান্ধেরবাল, বারামুলা, শোপিয়ান ও পুলওয়ামার কলেজেও। সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা  স্পষ্ট নয়। ঘটনার জেরে ফের উপত্যকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বন্ধ করে দেয়া ঞয় কাশ্মীরের সব উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজও।

পড়ুয়াদের বিক্ষোভ নিয়ে পিডিপি-র কড়া সমালোচনা করেছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা। তার বক্তব্য, ‘কাশ্মীর জুড়ে ছাত্র বিক্ষোভের ফল মেহবুবা জানেন কি?’ ওমরের মতে, পুলওয়ামার ঘটনার পরেই কলেজ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা উচিত ছিল। মেহবুবা পরিস্থিতি সম্পর্কে আদৌ সচেতন নন।

বিক্ষোভে জেরবার মেহবুবা সরকারকে ভাবাচ্ছে স্বাধীনতাকামীরাও। বান্দিপোরার হাজিনে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা আকবর লোনের ঘনিষ্ঠ রশিদ বিল্লাকে বাড়িতে ঢুকে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে সরকারের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন বিল্লা। ১৯৯৫ সালে সরকারি বিশেষ বাহিনীর (ইখওয়ান) সদস্য হিসেবে সাত জনকে হত্যার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। রশিদের ছেলে জানিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী ওদের পথ দেখিয়ে আনে।

print

LEAVE A REPLY