ব্রেক্সিটে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না: ক্যামেরন

সফররত যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন দৃঢ় আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনো পরিবর্তন হবে না। এ সম্পর্ক আরও বিকশিত হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্গো বিমান সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা ইস্যু সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে ক্যামেরন আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের ওপর থেকে কার্গো বিমানের নিষেধাজ্ঞা সমস্যা শিগগির সমাধান হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্যামেরন বলেন, ‘ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশে আসছেন।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশী শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, পরিকল্পনা ও উদ্যোক্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিরাট অবদান রয়েছে।’

ক্যামেরন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের দ্রুত উন্নয়নে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বিষয়ে তার দলের প্রণীত নীতিমালা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও ডিজিটাইজেশনে সরকারের অসামান্য সাফল্যের উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা জানান, তার সরকার আরও শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ১শ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে এবং এসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে সরকার গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা দেশব্যাপী রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছি এবং দক্ষিণ অঞ্চলে রেললাইন নির্মাণে আমরা ব্রিটিশ কোম্পানিকে নিয়োগ দিয়েছি।

রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মিয়ানমারের ৪ লাখ নাগরিককে আশ্রয় দেয়া অত্যন্ত কঠিন। দেশটি যদি তাদের নাগরিকদের এখান থেকে ফিরিয়ে নেয় সেটিই হবে সবচেয়ে উত্তম।

তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ সংযোগ স্থাপন জোরদারের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিবিআইএন এবং বিসিআইএম-ইসি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম এবং ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

print

LEAVE A REPLY