বিচার বিভাগকে পঙ্গু করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে ভবিষ্যতে সংবিধানের কোনো বিধান বা আইন সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্ট পিছপা হবে না।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার যদি বিচার বিভাগকে সহায়তা না করে তবে তা সত্যি দুঃখজনক।

সরকারকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগকে পঙ্গু করার চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত করা হবে না।

মঙ্গলবার রাতে বগুড়া সার্কিট হাউজে জেলা জজশিপ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি আয়োজিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বগুড়ার সিনিয়র জেলা জজ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম জজ শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।

অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফজলুল হক, সিভিল সার্জন ডা. সামসুল হক, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ, লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বিনয় দাস বিষু, জিপি এএনএম ময়নুল ইসলাম, পিপি আবদুল মতিন, প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জ্জী, বার সমিতির সভাপতি লুৎফে গালিব আল জাহিদ মৃদুল, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, আমি যেদিন থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি সেদিন থেকেই বিচার বিভাগকে রোল মডেল করার চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু সরকারের একটি মহল আমার এই চেষ্টায় সহযোগিতা না করায় দিন দিন মামলা জট বাড়ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে ডিজিটাল করার জন্য বার বার তাগাদা দিলেও আইন মন্ত্রণালয় আমাকে চিঠি দিয়ে বাঁধা দিচ্ছে।

তিনি আইন মন্ত্রণালয়কে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা শুধু আমাদের উপরই খবরদারি করছেন না, তারা সুপ্রিম কোর্টের উপরও হস্তক্ষেপ করছেন।

বিচার বিভাগ সরকারের উন্নয়নে বাঁধা দেয় না এমন দাবি করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাঁধা দেয়া হয়নি; তাহলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতো। একই দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ালে তাদের ভিন্ন প্রতীক দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণ করতে হয়; কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে ভাঙনের কারণে তা সম্ভব নয়। আইন অনুসারে নির্বাচন হবার কথা না থাকলেও সে সুযোগ দেয়া হয়।

তিনি বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মামলার মেরিট দেখে নিষ্পত্তি করুন। বিচারের নামে প্রহসন মেনে নেয়া হবে না।

তিনি বগুড়ায় ২০০০ সালের আগে সকল দেওয়ানি ও ২০০৫ সালের আগের সকল ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন।

সরকারি কৌশুলীদের সম্মানী কম হওয়ার সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, পিপি, জিপি ও অন্যদের সম্মানী কম হবার কারণেই তারা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে থাকে। এতে মামলার জট বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, রাত ৯টার সময়ও এসিল্যান্ডের অফিস খোলা থাকে। সকল রেকর্ড থাকার পরও নামজারীতে অনিয়ম করা হয়। একজনের সম্পত্তি অন্যজনকে রেকর্ড করে দেয়া হয়ে থাকে। তিনি এ ব্যাপারে ডিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় নানা উসকানি দেয়া হয়। এতে অনেক যুবক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তাই প্রশাসনকে সাদা পোশাকে উপস্থিত থেকে নোট করতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ইমামদের ডেকে পরামর্শ দিতেও বলেন তিনি।

২০১০ সালে শুরু হওয়া বগুড়া ম্যাজিস্ট্রেসি ১২ তলা ভবনের কাজ ২৩ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও ৬৫ মাসে শেষ না হওয়ায় প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি গণপূর্ত বিভাগকে আগামী ৩১ মে’র মধ্যে অন্তত ৪ তলার কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, নিজে এসে উদ্বোধন করবেন।

এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়ার সকল আদালত পরিদর্শন ও বিভাগীয় কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে দেখেন প্রধান বিচারপতি। বিকালে মহাস্থান যাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।

print

LEAVE A REPLY