চল্লিশ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছে না

রমজান মাস আসতে বাকি আরও তিন সপ্তাহ। এর মধ্যে ছোলা, ডাল ও চিনির দাম বেড়ে গেছে। গতকাল এ তিনটি পণ্যের মধ্যে ছোলা ১০০, মসুর ডাল ১৪০ ও চিনি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চাহিদা বেশি এমন পণ্যের দাম বাড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সরকারের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই বাড়ছে দাম। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে দাম। এ ছাড়াও রাজধানীর কাঁচাবাজারে ৪০ টাকার কমে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকায়। নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আসন্ন রমজান মাসে ৫৫০ টাকায় ঠেকতে পারে। এসবের পাশাপাশি সংযমের মাস রমজানে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় অনেক। গত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে, রমজানের আগে বেড়ে যায় দাম। তবে এবার দাম বাড়ার ঘটনাটি ঘটেছে বেশি আগে। সরকার অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে যাচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এমনও বলেছেন, দাম না বাড়ালে পুরস্কার দেবে সরকার। ব্যবসায়ীরাও বলেছেন, রমজানে চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত আমদানি করা হচ্ছে। কাজেই দাম বাড়বে না। এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীরা এর আগেও দিয়েছেন। তবে কথা রাখেনি তারা।

এদিকে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছিল ৫১ টাকা, গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৫৪ টাকায়। ইন্ডিয়ান বেতি মোটা চাল বিক্রি হয়েছিল ৪৩ টাকা, গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা। নাজিরশাহী চাল বিক্রি হয়েছিল ৫২ টাকা, গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। কাটারিভোগ চাল বিক্রি হয়েছিল ৫৫ টাকা, গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। এভাবে চট্টগ্রামে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম পাঁচ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে চালের বাজার অস্থির করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কাজীর দেউড়ি বাজারের কামাল স্টোরের মালিক মো. কামাল বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। মিনিকেট চালের ৫০ কেজি বস্তা গত সপ্তাহে কেনা হয় দুই হাজার ৪০০ টাকায়, এ সপ্তাহে সেটি কিনতে হয়েছে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। এদিকে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সবজির দামও। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছিল ২৫-৩০ টাকা, গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা। ঝিঙে ও পটল বিক্রি হয়েছিল ৪০ টাকা, গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা। ৪০ টাকার ঢেড়শ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, ৫০ টাকার বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। নগরের বকসি হাটের ক্রেতা ইরশাদুল আলম বলেন, কাকরল বের হয়েছে এক মাস হয়ে গেছে। এখনো বাজারে প্রতি কেজি কাকরল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। মানে কাকরল এখন বাজারের ভিআইপি সবজি। বকসি হাটের খুচরা সবজি বিক্রেতার কফিল উদ্দিন বলেন, গত এক সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু কিছু জেলায় সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে সবজির দাম বাড়ছে।

print

LEAVE A REPLY