আমাদের সুটকেসে ভরে আটকে রাখা হচ্ছে : নাসরিন

সম্প্রতি শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেত্রী নাসরিন। নির্বাচনের পরদিন সন্ধ্যায় এফডিসির ঝর্ণাস্পটে গিয়ে দেখা মেলে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর। সেখানে সহশিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হচ্ছিলেন তিনি। সহশিল্পীদের জড়িয়ে ধরে যেন কেঁদে ফেলেছিলেন।

নাসরিনকে পর্দায় দেখা মেলে কমেডিয়ান কিংবা রোমান্টিক চরিত্রে। বাস্তবে নাসরিন একজন আবেগপ্রবণ মানুষ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্রমাগত নিম্নমুখী প্রবণতা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তাই তো চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের কথা ভেবে কান্না চলে আসে তার। নাসরিন বলেন, আমরা নিজেরাই আমাদের চলচ্চিত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছি। আমাদের মা-বাবা (শীর্ষ পদে আসীন যারা) যদি উদ্যোগী হন তাহলে আমরা ফের পূর্বের ঢল নিয়ে আসতে পারব। ফের বাংলা ছবি আগের মতোই হাসবে।

বাংলাদেশে ক্রমেই সিনেমা হল কমে আসছে। আর যেসব হল রয়েছে সেসবে ঢুকছে কলকাতার ছবি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাসরিন। নাসরিন বলেন,  সাফটা চুক্তিতে সংশোধন আনা দরকার। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাক এমন চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। যেখানে আমরাই খেতে পারছি না, সেখানে আমরা অন্যকে খাবার তুলে দিচ্ছি।

ঢাকাই চলচ্চিত্র টিকিয়ে রাখতে হলে নকল থেকে বেরিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন নাসরিন। তিনি কালের কণ্ঠর নিকট দাবি করেন অনেক ছবি এখন হিন্দি মাদ্রাজি থেকে অনুকরণ করে লেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বুঝতেছি এটা নকল কিন্তু তারপরও আমরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। উপায় নেই। আমাদেরকে নির্দেশ মানতে হবে। আমাদের পেট রয়েছে, সেটা চালাতে হবে। ভালো ছবির জন্য, হিন্দি, মাদ্রাজি ছবি দেখে দেখে স্ক্রিপ্ট লেখা বাদ দিতে হবে বলে মনে করেন নাসরিন।

এখন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর বেকার শিল্পী রয়েছে দাবি করে নাসরিন বলেন, ছবি হচ্ছে অনেক, কিন্তু ছবির মান ভালো হচ্ছে না। কারণ একই শিল্পীদের বারবার ঘুরেফিরে নেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক শিল্পী বেকার হয়ে যাচ্ছে। কাজের অভাবে না খেয়ে মরছে। যারা কাজ করছে ঘুরে ফিরে একই অভিনয় করানো হচ্ছে যেন আমাদের একটা গণ্ডির মধ্যে, একটা সুটকেসে ভরে রাখা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের স্টাফ কোয়ার্টারে জন্ম নেওয়া নাসরিন চলচ্চিত্রে আসেন ১৯৯২ সালে। ওই বছর শাবনাজ-নাঈম জুটিকে দেখার জন্য এফডিসির গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ‘চাঁদনী’খ্যাত সেই জুটি তখন তুঙ্গে।

নাসরিনকে গেটে দেখেন ফখরুল হাসান বৈরাগী। বৈরাগী তখন তাকে ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন। ওমর সানী অভিনীত অগ্নিপথ ছবির মাধ্যমে নাসরিনের অভিষেক ঘটে। সম্প্রতি নাসরিন অভিনীত সত্তা ছবি মুক্তি পেয়েছে। খাস জমিন মুক্তির অপেক্ষায়। এখন আর প্রস্তাব পেলেই ছবিতে অভিনয় করবেন না তিনি। অভিনয়ের জন্য আদর্শিক চরিত্রকে প্রাধান্য দেবেন বলে জানান নাসরিন।

ব্যক্তিগত জীবনে নাসরিন দুই সন্তানের জননী। মেয়ের বয়স সাড়ে ৩ বছর ও ছেলের বয়স ৯ মাস। স্বামী রিয়েল খানও চলচিত্রে অভিনয় করেন। ইতিমধ্যে চারটি ছবিতে নায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। নাসরিন ও রিয়েল খান ২০১২ সালের মার্চে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

print

LEAVE A REPLY