স্বামীর সহযোগিতায় স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর সহযোগিতায় চার সন্তানের জননীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার স্থানীয় উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের গোয়াসপুর লামাপাড়া গ্রামের একটি পুকুর পাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) কবির আহমেদ, বালাগঞ্জ থানার ওসি এসএম জালাল উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহতের নাম সাফিয়া বেগম (২৭)। তিনি উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের গোয়াসপুর লামাপাড়া গ্রামের খাছিম উল্লার মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের কলুমা গ্রামের পংকি মিয়ার স্ত্রী।

নিহত সাফিয়া বেগমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে একই ইউনিয়নের কলুমা গ্রামের জইন উল্লার ছেলে পংকি মিয়ার সঙ্গে দিনমজুর খাছিম উল্লার বড় মেয়ে সাফিয়া বেগমের বিয়ে হয়।

গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে পংকি মিয়ার সঙ্গে সাফিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর অত্যাচারে তিনি চার সন্তানদেরকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকত। এজন্য তাকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছিল স্বামী। এমনকি লোকজনকে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকিও দিয়েছিল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সাফিয়া তার ৭ মাস বয়সি দুই যমজ শিশুর জন্য খাবার আনতে স্থানীয় জনকল্যাণ বাজারে যান। রাতে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান মেলেনি।

বুধবার সকালের দিকে স্থানীয়রা সাফিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনকে খবর দেন।

নিহত সাফিয়ার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, আমার বোন পংকি মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। বিয়ের পর থেকে স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। লোকজনের সঙ্গে খারাপ কাজ করাতে চাপ সৃষ্টি করত। এ কারণে সন্তানদেরকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসে সাফিয়া।

তিনি জানান, পংকি মিয়া প্রায় সময় আমাদের বাড়ি এসেও তাকে মারধর করত। এ নিয়ে কয়েক বছর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও করেছিল সে।

বালাগঞ্জ থানার এসআই সাদিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সাফিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ওসি জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।

print

LEAVE A REPLY