ম্যানচেস্টারে হামলা: ট্রাম্পের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বার্তা দেয়ার রাস্তা প্রশস্ত করল

ব্রাসেলস: সোমবার ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২২ জন নিহত এবং আরো অন্তত ৫৯জন আহত হয়েছে, যা ইউরোপকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ভয়াবহ হামলায় বহুসংখ্যক নিরীহ লোক হতাহত হওয়ায় নিন্দা জানিয়েছে ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন এবং সন্ত্রাসবাদ হতে কিভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এ পথ বের করারও আহবান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প এই হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন্ধু রাষ্ট্রসমূহকে আহবান জানান এবং কেন আরো বেশি পদক্ষেপ নিচ্ছে না সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেন।

মঙ্গলবার ইসরাইলী জাদুঘরে বক্তৃতায় ট্রাম নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘৃণ্য মতাদর্শকে চূর্ণ করার জন্য সকল সভ্য জাতিকে একত্রিত হওয়া আহ্বান জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আরো বলতে চাই যে- আমরা আমাদের মধ্য থেকে সন্ত্রাসী আর চরমপন্থীদেরকে খুঁজে বের করব এবং তাদের এই বর্বর মতাদর্শকে মুছে ফেলবো। আমাদের নাগরিকদেরকে এবং বিশ্বের জনগণকে রক্ষা করবো।’

মঙ্গলবার ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছে। হামলাকারী হচেছন ২২ বছর বয়সী ম্যানচেস্টারে জন্মগ্রহণকারী সালমান আবেদি। ম্যানচেস্টারের পুলিশ বলছে সালমান আবেদি এই হামলা একা চালিয়েছে না তার সাথে আরো কোনো সহযোগী ছিল সেটাই এখন তারা অনুসন্ধান করছে।

সিবিএস নিউজ রিপোর্ট করেছে যে , আক্রমণের আগেই ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আবেদি সম্পর্কে  অবগত ছিল।

আক্রমণটি সমগ্র ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কিছু অধিবাসীরা বলে যে তারা সন্ত্রাসী হামলার অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

ম্যানচেস্টারের অ্যালবার্ট স্কোয়ারে পৌর ভবনের বাইরে লোকজন নিহতদের স্মরণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে সালমান আবেদি অ্যারেনার প্রেক্ষাগৃহ চত্বরে ব্রিটিশ সময় রাত ১০ টা ৩৫ মিনিটে বোমা ফাটিয়েছে যখন আমেরিকান সঙ্গীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দের কনসার্ট শেষ এবং ভক্তরা হলচত্বর ছেড়ে বেরুতে শুরু করেছিল। এ হামলায় নিহত আট বছরের সাফি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। আর নিহত জর্জিনা কলেজ ছাত্রী। আহতরা শহরের আটটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এদের মধ্যে অল্পবয়সী ১২জন শিশু রয়েছে। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ।

প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে তার বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটে এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই বোমা হামলা একটা ‘নির্মম সন্ত্রাসী হামলা’ যার লক্ষ্য ছিল ‘অসহায় শিশু কিশোর।’

যুক্তরাজ্যে ২০০৫ সালের ৭ জুলাই চালানো সন্ত্রাসী হামলার পর এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলা। ২০০৫ সালের হামলায় মারা গিয়েছিল ৫২জন।

ট্রাম্প প্রচার করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসীদের সীমিত করার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি এখন এই প্রচারাভিযান বন্ধ করেছেন, কিন্তু তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে, সাময়িকভাবে ছয় মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ভ্রমণকারীদের নিষিদ্ধ করেন। ওয়াশিংটন স্টেট এবং হাওয়াই এর আদালত এই আদেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আদালত এটাকে বৈষম্য বলছে।

print

LEAVE A REPLY