ভ্যাটের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে: এফবিসিসিআই

১৫ শতাংশ ভ্যাট হারের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এতে দেশের শিল্প খাত বিশেষ করে এসএমই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাজেট ঘোষণার পরপরই এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই এসব কথা জানিয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এ সময় সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফসহ পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ভ্যাট আইন প্রসঙ্গে শফিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে। ভ্যাটের বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী মহল সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পূর্বে আইনের কতিপয় বিষয় সংশোধনের জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু বাজেটে সম্পূর্ণ না হলেও কিছুটা প্রতিফলন আমরা লক্ষ্য করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাটের কারণে দেশের শিল্প খাত বিশেষ করে এসএমই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে প্রভাব মূল্যায়নের প্রস্তাব ছিল।

তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আবারও প্রভাব মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই মনে করে, বাজেটে কতিপয় পণ্যের ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রাখা হয়েছে যা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেবে। প্রস্তাবিত বাজেটে টার্নওভার করের সীমা এক কোটি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে টার্নওভার ট্যাক্স ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখে টার্নওভার করের সীমা ৫ কোটি টাকার পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বার্ষিক টার্নওভার সীমা ৩৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে যা ৩০ লাখ টাকা আছে। ক্ষুদ্র, গ্রামীণ উদ্যোগ, কুটির শিল্পসহ প্রান্তিক খাতের বিকাশে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা দোকানদারদের হিসাব সংরক্ষণের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে অব্যাহতি এ সীমা ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করার জন্য পুনরায় প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

আয়কর : বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও এ সীমা দুই লাখ ৫০ হাজার টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে এ সীমা তিন লাখ ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার জন্য আবারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্পোরেট করহার হ্রাস, সারচার্জের সীমা সোয়া দুই কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, রফতানির উৎসে কর দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫০ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই বলছে, ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে আমানতকারী আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন। এ ছাড়া অর্থ ব্যাংক চ্যানেলে না গিয়ে ইনফরমাল চ্যানেলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা অর্থনীতির জন্য শুভ নয়।

সুতরাং আবগারি কর বৃদ্ধি না করে পূর্ববর্তী অবস্থায় রাখার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের মতো আগামী বাজেটেও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

আমদানি শুল্ক : দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বর্ধিত হারে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং ভোক্তাস্বার্থ সংরক্ষণে বর্তমান শুল্ক অব্যাহত রাখায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

তবে আন্ডার ইনভয়েসিং ও মিস ডিক্লারেশন এ কারণে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্য তৈরি হয়।

এ জন্য রাজস্ব নীতি বাস্তবায়ন ও রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান হয়রানি নিরসনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এফবিসিসিআইয়ের একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পরে : বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াকে ব্যক্তিগত জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে বাজেট ডকুমেন্টস, অর্থ বিল পর্যালোচনা এবং এফবিসিসিআইয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ৩ জুন বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

print

LEAVE A REPLY