আইন বিশ্লেষকদের অভিমত; সরকারের হাতে চলে যাবে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ

খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ড. শাহদিন মালিক, ইকতেদার আহমেদ ও আসিফ নজরুল
খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ড. শাহদিন মালিক, ইকতেদার আহমেদ ও আসিফ নজরুল

বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হলে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে চলে যাবে বলে অভিমত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের জন্যই বর্তমান সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। এটি করা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ুণœ হবে। এই বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যেতে বাধ্য। আর সর্বোচ্চ বিচারালয়ের প্রতি জনগণের আস্থা না থাকলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অসাধ্য হয়ে যাবে। নয়া দিগন্তের কাছে এমন অভিমত দেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, সাবেক জেলা জজ ও আইন কমিশনের সচিব ইকতেদার আহমেদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শাহদীন মালিক।
১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসনের মতা ছিল সংসদের হাতে। পরে চতুর্থ সংশোধনীর (বাকশাল গঠনের সময়) মাধ্যমে এই ক্ষমতা দেয়া হয় প্রেসিডেন্টের কাছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ওই নিয়ম বাতিল করে বিচারপতিদের অপসারণের মতা দেয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত হয়। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলেও এ বিষয়টি বহাল থাকে।
উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের মতা সংসদের হাতে দেয়ার বিষয়টি জোরেশোরে আলোচনায় আসে আওয়ামী লীগের গত সরকারের মেয়াদে। ২০১২ সালে তৎকালীন স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সংসদ সদস্য হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণের দাবি তোলেন। সে সময়ই বিচারপতিদের অপসারণের মতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়।
এর আগে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ও এ নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় এ সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন করা না হলেও আইন কমিশন গত ২৬ জুন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে একটি সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পর থেকেই এ নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক চলছে। এরপর বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যে তারা এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন যে, বর্তমান সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথেই ভাবছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইনের খসড়ার অনুমোদন হয়েছে। এতে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন বা অপসারণের মতা জাতীয় সংসদের হাতে আবার ফিরে আসছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের অভিশংসনের মতা সংসদের কাছে ছিল।
নতুন এই সংশোধনীতে বলা হয়Ñ ১. এই আইন সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪ নামে অভিহিত হবে। ২. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে নিম্নরূপ ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হবে, যথা: ‘৯৬। বিচারকদের পদের মেয়াদ।- (১) এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী-সাপেে কোনো বিচারক ৬৭ (সাতষট্টি) বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। (২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যরে কারণে সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত  কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে না। (৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। (৪) কোনো বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে Justisস্বারযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করতে পারবেন।’
বিচারপতিদের অভিশংসন বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছেÑ “(১) এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেে  কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। (২) এই অনুচ্ছেদের নিম্নরূপ বিধানাবলী অনুযায়ী ব্যতীত কোন বিচারককে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত করা যাইবে না। (৩) একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকিবে যাহা এই অনুচ্ছেদে ‘কাউন্সিল’ বলিয়া উল্লেখিত হইবে এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুইজন কর্মে প্রবীণ তাঁহাদের লইয়া গঠিত হইবে।”
এই অনুচ্ছেদে আরো বলা হয়েছে, “যে েেত্র কাউন্সিল অথবা অন্য কোনো সূত্র হইতে প্রাপ্ত তথ্যে রাষ্ট্রপতির এইরূপ বুঝিবার কারণ থাকে যে কোন বিচারক- (ক) শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যরে কারণে তাঁহার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিতে অযোগ্য হইয়া পড়িতে পারেন, অথবা (খ) গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী হইতে পারেন, সেইেেত্র রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলকে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করিতে ও উহার তদন্ত ফল জ্ঞাপন করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন। (৬) কাউন্সিল তদন্ত করিবার পর রাষ্ট্রপতির নিকট যদি এইরূপ রিপোর্ট করেন যে, উহার মতে উক্ত বিচারক তাঁহার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য হইয়া পড়িয়াছেন অথবা গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী হইয়াছেন তাহা হইলে রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা উক্ত বিচারককে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত করিবেন।”
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক শুরুর প্রেক্ষাপটে গত ২০ জুলাই সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের (অপসারণ) মতা সংসদকে দেয়ার প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন করা হয়। রিট দায়েরকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানে বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া আছে। কিন্তু বিচারকদের অভিশংসনের ভার সংসদকে দিয়ে বিচারকদের বিচার যদি সংসদ সদস্যদের হাতে দেয়া হয়, তাহলে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। এটা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার সাথে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অসদাচরণের কারণে উচ্চ আদালতের কোনো বিচারককে অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। যখন বাকশাল হয়, তখন সে বিধান বাতিল করে এই ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে দেয়া হয়। পরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে এই ক্ষমতা সেই কাউন্সিলের হাতে দেন।
তিনি আরো বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা যদি আবার সংসদের হাতে দিতে হয় তাহলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার অনির্বাচিত এবং পার্লামেন্ট একদলীয়। তাদের হাতে এই ক্ষমতা দেয়া হলে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হবে। মূলত বিচার বিভাগকে দলীয়করণের উদ্দেশ্যেই তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে। নিম্ন আদালতকে তারা দলীয়করণ করেছে। এখন সুপ্রিম কোর্টকে তারা দলীয়করণ করতে চাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, কোনোভাবেই অভিশংসন ক্ষমতা এককভাবে সংসদের হাতে দেয়া যাবে না। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকতে হবে। তবে তাদের সুপারিশ এখন প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়, সেটা সংসদের কাছে পাঠানো যেতে পারে। নতুবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ুণœ হবে।
প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে বা হচ্ছে, তাতে অভিশংসনের ক্ষমতা কোনোভাবেই পার্লামেন্টের হাতে থাকা উচিত না। যদি আইনের শাসন বজায় রাখতে হয়, তাহলে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে থাকা উচিত।
সাবেক জেলা জজ ও সংবিধান বিশ্লেষক ইকতেদার আহমেদ বলেছেন, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই অসদাচরণের দায়ে বিচারপতিদের অপসারণ করা হয় সংসদীয় অভিশংসন পদ্ধতির মাধ্যমে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ পদ্ধতি অনুসৃত হয়। সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিটি গণতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, সংসদ সদস্যগণ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগের ক্ষমতা সংবিধান ও আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কোনো বিভাগকেই অসীম ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ও বলা হয়েছিল, ’৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তন করা হবে। কিন্তু তখন কী কারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রথাটি বহাল রাখা হলোÑ এ বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার যদি প্রকৃতই বিচার বিভাগকে তার মর্যাদার আসনে দেখতে চাইত, তাহলে পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রথাটি রহিত করার অত্যাবশ্যকতা ছিল। কিন্তু তখন না করে বর্তমানে একটি প্রশ্নবিদ্ধ সংসদের মাধ্যমে সংসদে অভিশংসন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়ায় অনেকের মনে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শাহদীন মালিক সম্প্রতি নয়া দিগন্তকে বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকুÑ তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, বিচারপতিদের অপসারণের জন্য বর্তমানে যে পদ্ধতি বহাল আছে, তা ১৯৭৭ সাল থেকে আছে। বিদ্যমান ব্যবস্থা নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে কি না, সেটা দেখতে হবে। বিদ্যমান ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতা থাকলে বা এ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সরকার তা সংস্কার করবে, অন্যথায় সংস্কারের কোনো প্রয়োজনীতা নেই।
তিনি আরো বলেন, যদি ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়াই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সেটাও হচ্ছে ইচ্ছেমতো। পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ও ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় এমন সব বিষয় সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছে, যার অনেক কিছুই ’৭২-এর সংবিধানে নেই। অর্থাৎ বাস্তবতার নিরিখে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতার এখতিয়ার পরিবর্তনের কোনো তাগিদ এখন নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে ব্যবসায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ। এ ছাড়া আছেন অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও সেনাকর্মকর্তা। আইনজীবীর সংখ্যা নগণ্য। এমন একটা সংসদের ওপর বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা দেয়া যায় কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ড. মালিক। তিনি বলেন, এমনটি করা হলে জনমনে ধারণা হবেন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। ফলে বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা কমে যেতে বাধ্য। বর্তমান জগতে যে সমাজে সর্বোচ্চ বিচারালয়ের ওপর জনগণের আস্থা নেই, সেই সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অসাধ্য।
ড. আসিফ নজরুল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা বর্তমান সংসদের মাধ্যমে কেন করা হচ্ছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। পঞ্চদশ সংশোধনী যখন করা হয়েছিল কেন তখন তা করা হয়নিন সে জন্যই এই প্রশ্ন। যখন পঞ্চদশ সংশোধনী করা হয় তখনকার সংসদ নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিল না। সে সময় সংসদে একটি কার্যকর বিরোধীদলও ছিল। কিন্তু তখন সংবিাধানে এসংক্রান্ত কোনো সংশোধনী আনা হয়নি। বর্তমানে একটি বিতর্কিত সংসদ এই সংশোধনী আনছে, সে জন্য এর অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছেন বিচারকদের অভিসংশন করার ক্ষমতা সংসদ কেন নিচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। সরকার মানুষের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেনি। তাই মানুষের মনে এমন ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে, সরকার দেশে যে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে, সে লক্ষ্যেই তারা এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

print

LEAVE A REPLY