নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারকে খালেদা-তারেকের সমবেদনা ও ঈদ উপহার

ঢাকা: বিগত দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনে গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার এবং নির্যাতিত এক হাজারের বেশি পরিবারকে ঈদ উপহার দিচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার ইফতার করে তাদের হাতে ঈদ উপহার তুলে দিলেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ‘হোটেল লংবিচ’-এ গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের স্বজনদের নিয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতারের আধঘণ্টা আগে অনুষ্ঠানস্থলে যান খালেদা জিয়া। তিনি টেবিলে টেবিলে ঘুরে আমন্ত্রিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যরাও খালেদা জিয়াকে কাছে পেয়ে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান। অনেকে এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এ সময় খালেদা জিয়া তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির যারা গত কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে তারা কীভাবে আছেন, তা আমরা কিছুই জানি না। আপনারা যে আশায় আছেন- আপনাদের স্বজনরা একদিন ফিরে আসবে, আমরাও সেই আশায় আছি। আবার তারা ফিরে এসে আপনাদের মা, বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের আদর করবে ঠিক একইভাবে আমাদের দলে ফিরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে আমাদের আপন হয়ে থাকবে। এর পরই ভারি হয়ে আসে বিএনপি চেয়ারপারসনের কণ্ঠ। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত দলের নেতাকর্মী ও নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশ।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই নিখোঁজ স্বজনদের কয়েকজন স্মৃতিচারণ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আন্দোলনে গুম-খুনের শিকার পারিবারের সদস্যদের হাতে ঈদ উপহার ও আর্থিক সহয়তা তুলে দেন খালেদা জিয়া। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতা ও বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সারাদেশে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা এই উপহার সামগ্রী নিয়ে গত দুইদিন ঘুরে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদ উপহারের মধ্যে রয়েছে— শাড়ি, লুঙ্গী, জায়নামাজ, বিস্কুট, পোলাওয়ের চাল, দুধ, চিনি, লাচ্চা সেমাই, খেজুর, চকলেট প্রভৃতি; সেই সঙ্গে তারেক রহমান সাক্ষরিত ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড। যুক্তরাজ্য বিএনপি আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে।

এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৪-১৫ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলনে যে সকল নেতাকর্মী নিহত ও পঙ্গু হয়েছেন তাদের তালিকা করা হয় তারেক রহমানের নির্দেশে। তাদের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা-সাহায্য নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে বিএনপি। পরে আরো যারা খুন-গুমের শিকার হন তাদের নাম এই তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। আর এ তালিকা তৈরীতে সর্বাত্মক সহায়তা করছে জাতীয়তাবাদী হেল্প সেল নামের একটি সংগঠন।

তারেক রহমানের প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।

এসব বিষয়ে দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, স্বজন হারানো পরিবারগুলোকে স্বজন ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা নেই কারো। সন্তান হারানো মায়ের, ভাই হারানোর বোন-ভাইয়ের, স্বামী হারানো স্ত্রীর এবং পিতা হারানো সন্তানের শূন্যস্থান পূরণ করার ক্ষমতা কারো নেই। তবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিকতায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় অসহায়, হতাশাগ্রস্ত, স্মান মুখগুলোতে দেখা যাবে খানিকটা তৃপ্তির হাসি।

print

LEAVE A REPLY