ঘুমাচ্ছিল চালক, চালাচ্ছিল হেলপার, নিহতদের বাড়ি লালমনিরহাটে

লালমনিরহাট: ঈদে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক উল্টে লালমনিরহাটের ১৭ জন নিহত হয়েছে। ওই সময় আহত হয়েছে আরো ১৫ জন। শনিবার ভোরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কিছুদুর আসার পর ট্রাকের চালক গাড়ীটি চালানোর জন্য হেলপারকে দিয়ে ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু ওই সময় হেলপারের চোখেও প্রচণ্ড ঘুম ছিল। হেলপার ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ট্রাকটি চালাচ্ছিল। আর সেই কারণেই এ দুর্ঘটনা। লোকজন সিমেন্টের বস্তার নিচে পড়ে যাওয়ায় মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া শহিনুর ইসলাম জানান, তারা গাজীপুর থেকে সিমেন্ট ভর্তি এই ট্রাকে উঠেছিলেন। চালক রাতভর গাড়ি চালান। তিনি মাঝে মাঝেই ঝিমুচ্ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার আগে এসে চালক গাড়ি চালানোর জন্য ট্রাকের হেলপারকে দেন। হেলপার প্রথমে ভালোভাবে চালালেও পরে তিনিও ঝিমুনি শুরু করেন। দুর্ঘটনার সময় তারা ট্রাকের কেবিনে ছিলেন। এ কারণেই বেঁচে গেছেন।
নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রবিউল ইসলাম, নাসিদা আক্তার, আজিজুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন, আনিছুজ্জামান, সুর্পণা, কোহিনুর ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মজনু মিয়া, সাদ্দাম হোসেন, মুনির হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও খলিল মিয়া। তারা বাসের টিকিটি না পেয়ে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। নিহতদের পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় ওইসব এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
রংপুর হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বীরেন চন্দ্র মহাপাত্র বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই তৈরি পোশাক শ্রমিক ও রিক্সা চালক। ঈদে গাজীপুর থেকে ট্রাকে করে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধা উপজেলায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। নিহতদের বেশির ভাগের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বত্রিশ হাজারি গ্রামে। বেশির ভাগই ত্রিশোর্ধ্ব নারী-পুরুষ। তারা গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। চালকের ঝিমুনির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

print

LEAVE A REPLY