কূটনৈতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না শাহেদুল ইসলাম

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কাউন্সেলর হিসেবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া শাহেদুল ইসলামের কূটনৈতিক সুরক্ষা পাওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতন, মানবপাচারসহ প্রায় দেড় ডজন অভিযোগে নিউইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলমান থাকায় ওই কূটনীতিকের সুবিধাদি প্রাপ্য হলেও আপাতত তা দেয়া যাচ্ছে না বলে অপারগতা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে গৃহকর্মী নির্যাতন ও মানবপাচারসহ দুই ডজনের উপর মামলা হয়েছে বাংলাদেশের তৎকালীন ডেপুটি কনসাল জেনারেল মো. শাহেদুল ইসলামের উপর। পরবর্তীতে তাকে কূটনৈতিক সুরক্ষা দিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কাউন্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তাকে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে নিয়োগ দিলেও কাউন্সেলর হিসেবে তার প্রাপ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, শাহেদুল ইসলাম বর্তমানে জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনে কাউন্সেলর হিসেবেই কাজ করছেন। কিন্তু কাউন্সেলর হিসেবে যে সুবিধা তার প্রাপ্য তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। কারণ জাতিসংঘ বলছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় তার প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে না জাতিসংঘ।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক সুরক্ষা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাদিগুলো জাতিসংঘ নিজে বাস্তবায়ন করে না। জাতিসংঘ ফাইলগুলো মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে পাঠিয়ে দেয়। আর পররাষ্ট্র দফতর বিষয়গুলো নিশ্চিত করে। যেহেতু শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের মামলা চলছে। ফলে এর মধ্যে জড়িয়ে জাতিসংঘ তৃতীয় পক্ষ হতে চায় না।
জানা গেছে, সম্প্রতি এক সরকারি আদেশে শাহেদুল ইসলামকে নিউইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেলের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের কাউন্সেলর পদে নিয়োগ দেয়া হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, বাংলাদেশ মিশনের তরফে সে আদেশের বিষয়টি জাতিসংঘের প্রটোকল বিভাগকে অবহিত করা হয়।
একই সঙ্গে ওই কূটনীতিকের কূটনীতিক হিসেবে প্রাপ্য সুবিধাদি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সহাযোগিতা কামনা করে মিশন। কিন্তু জাতিসংঘের তরফে মামলা চলমান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে এ নিয়ে আপাতত দাফতরিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। শাহেদুল ইসলামের সমস্যাটির কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে ঢাকা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের কোর্টে মামলার শুনানি হয়েছে। গৃহকর্মীকে নির্যাতন ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলামের আইনজীবীরা ওই দিন আদালতে বক্তব্য রাখেন। আদালত আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এর আগে শাহেদুল ইসলামের পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে একটি মৌখিক আবেদন করেছিলেন আইনজীবীরা। ২৮ জুনের শুনানি শেষে আদালত পাসপোর্টের বিষয়ে নতুন করে লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেছেন। আগামী ১১ই জুলাইয়ের মধ্যে এ আবেদন করতে বলা হয়েছে।
গত ১২ জুন সকালে জ্যামাইকার বাসা থেকে বাংলাদেশের তৎকালীন ডেপুটি কনসাল জেনারেল মো. শাহেদুল ইসলামকে আটক করে নিয়ে যায় নিউইয়র্ক পুলিশ। আটকের পরপরই কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে তাকে হাজির করা হয়। সেখানে উভয়পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে শুনানি শেষে বিচারক ড্যানিয়েল লুইস তার জামিনের জন্য ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলার জমা দেয়ার শর্ত দেন।
একই সঙ্গে বিচারকের সামনে তাৎক্ষণিক তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সে সময়ে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা আটক থাকার পর ১৩ জুন সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশি এ কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে হচ্ছে।

উৎসঃ jagonews24

print

LEAVE A REPLY