ট্যানারির বর্জ্যে ধলেশ্বরী দূষিত হলে কঠোর ব্যবস্থা

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হওয়া ট্যানারির বর্জ্যে ধলেশ্বরী নদী দূষিত হওয়া রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে  বিসিককে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

এছাড়া ধলেশ্বরী নদী দূষিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন আদালত।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ হাজারীবাগে ট্যানারি অপসারণ সংক্রান্ত আপিলের রায়ে এ কথা বলা হয়।

বুধবার ১৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। রায়ে আদালত পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ৯ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন।

এ মামলায় আদালতে ট্যানারির মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মনজিল মোরসেদ বলেন, রায় ঘোষণাকালে আদালত বলেছিলেন, বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করার জন্যই ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই ট্যানারির বর্জ্য যেন ধলেশ্বরী নদীতে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে গিয়ে ধলেশ্বরী যেন আরেকটি বুড়িগঙ্গায় পরিণত না হয়। যদি এমন কিছু ঘটে তাহলে পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।

তিনি জানান পূর্ণাঙ্গ রায়ে সাত দিনের মধ্যে ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ অর্থ ট্যানারি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ট্যানারি বন্ধের দিন পর্যন্ত যে সব শ্রমিক কর্মরত ছিল তাদের মজুরি এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতেও বলা হয়েছে।

অপর নির্দেশনায় সাভারে যেসব ট্যানারি স্থানান্তরিত হয়েছে তাতে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সাতদিনের মধ্যে সংযোগ দিতে বলা হয়েছে।

অন্য এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৫৫ ট্যানারি ব্যতীত অন্য ট্যানারিকে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে যেন কোনো ধরনের বাধা দেয়া না হয়।

print

LEAVE A REPLY