বিশ্বাসঘাতক হলে হাত পেতে টাকা নিয়ে নিতাম।

পানামা দুর্নীতিতে মুখ পুড়েছে গোটা পরিবারের। পাকিস্তানের সর্বত্র তার ইস্তফার দাবি উঠছে। বেসামাল কুর্সি সামলাতে তাই এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দোহাই দিচ্ছেন নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের প্রতি নিজের দরদ বোঝাতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনকে টেনে এনেছেন তিনি।
বুধবার পাঞ্জাবের সিয়ালকোটে একটি জনসভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন শরিফ। সেখানে বলেন, ‘‌১৯৯৮ সালে পরমাণু পরীক্ষা রুখতে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিল ক্লিন্টন। বিশ্বাসঘাতক হলে হাত পেতে টাকা নিয়ে নিতাম। দেশকে ভালোবাসি বলেই সেই প্রস্তাবে সাড়া দিইনি।’‌ দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন শরিফ।
তার মতে, ‘‌নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে। যাতে খুব সহজে ক্ষমতা দখল করা যায়। সাধারণ মানুষ আমার পাশে থাকায় নির্বাচনের মাধ্যমে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই দুর্নীতি সংক্রান্ত ভুয়া অভিযোগ আনা হচ্ছে। আর কোন দুর্নীতির কথা বলছে ওরা?‌ আমার সরকার সাধারণ মানুষের এক পয়সাও এদিক ওদিক করেনি। ক্ষমতা থাকলে প্রমাণ করে দেখাক। জানি পারবে না।’‌
১৯৭৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে রাজস্থানের পোখরানে প্রথম পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে ভারত। তার ২৪ বছর পর, ১৯৯৮ সালের মে মাসে পোখরানে দ্বিতীয়বার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে অটল বিহারি বাজপেয়ীর সরকার। সেবার ভূগর্ভে ৫টি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়। ভারতকে জবাব দিতে তার দু’‌সপ্তাহের মধ্যে, ২৮ মে বেলুচিস্তানের ছগাই জেলায় ভূগর্ভে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় শরিফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার। মার্কিন চোখ রাঙানি এড়িয়ে ৩০ মে ফের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে তারা। সেই নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় দুই দেশকেই। আজও আটকে রয়েছে পরমাণু সরবরাহ গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্তি। সেই প্রসঙ্গ টেনেছেন তিনি।
গত বছর পানামার ‘‌মোজেক ফঁসেকা’‌ আইনি সংস্থার নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পরই দুর্নীতিতে নাম জড়ায় নওয়াজ শরিফের পরিবারের। জানা যায়, করফাঁকি দিয়ে, ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে ব্রিটেন এবং পৃথিবীর নানা জায়গায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তারা। রয়েছে প্রচুর সম্পত্তিও। তারপর থেকেই ইসলামাবাদ থেকে নওয়াজ শরিফকে উৎখাত করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিরোধীরা। দাবি তুলেছেন তার ইস্তফার। মামলাটি এখন সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন।

print

LEAVE A REPLY