ভারত ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র

গতো ২ সপ্তাহ আগে স্ট্যাটাসে একটা কথা বলেছিলাম-
চীন ও পাকিস্তান শুধু নয়, আমেরিকাও চাইছে ভারত ভেঙ্গে যাক। মোদি ইসরাইল গিয়েছিলো ইহুদীদের পায়ে ধরতে, যেন ভারত ভাঙ্গা থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু সে আশা সম্ভবত বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

আমার ঐ স্ট্যাটাসের স্বপক্ষে আজকে ভারতের শিবসেনা প্রধান উদ্ধভ ঠ্যাকরের বক্তব্য পেলাম। শিবসেনা প্রধান বলেছে- পাকিস্তান ও চিন ইস্যুতে আর্ন্তজাতিক মহলের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে ভারত৷ মোদি ঘন ঘন বিদেশ সফরেও বিশেষ সুফল পায়নি।

তারমানে ভারত রক্ষা ইস্যুতে আমেরিকা-ইসরাইলকে কাছে পাচ্ছে না ভারত। ইতিমধ্যে অবশ্য ভুটানও জানিয়ে দিয়েছে তারা মোটেও ভারতের পক্ষে নেই।

খবর মারফত জানছি,
গত কয়েকদিনে চীনের অবস্থান বেশ শক্ত, তারা প্রয়োজনে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে। তবে এখানে আরো শক্ত হতে হবে পাকিস্তানকে। কাশ্মীর ইস্যুতে তারা ভারতের উপর বল প্রয়োগের অধিকার রাখে। এক্ষেত্রে তাদের উচিত, কাশ্মীরে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা। মনে রাখতে হবে- শুধু খাচার দরজাটা খুলে দিলেই হবে, বাকিটা বন্দি কাশ্মীরীরা নিজেরাই করতে পারবে।

গত কয়েকদিনে মিডিয়ার খবরে  একটি বিষয় স্পষ্ট, বর্তমানে চীন-ভারতের মধ্যে দ্বন্দ্ব ‘ডকলাম’ নিয়ে, যার পরবর্তী ধাপ হচ্ছে শিলিগুড়ি কোরিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’ অর্থাৎ ডকলাম ক্লিয়ার হতেই চীন চাইবে চিকেন’স নেক এর নিয়ন্ত্রন নিতে। কিন্তু তখনও একটা বাধা আছে !
সত্যি বলতে ভারত টুকরো হওয়ার এখন একমাত্র বাধা বাংলাদেশ, আরো সহজ করে বলতে আওয়ামী সরকার। কারণ চিকেনস নেক চীনের নিয়ন্ত্রনে গেলে ভারত বাংলাদেশের কাছে চাইবে করিডোর, যার মাধ্যমে যোগাযোগ হবে বিচ্ছিন্ন সেভেন সিস্টারে। আর আওয়ামী সরকার কিংবা তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভারতকে এই বিপদে সাহায্যতে না বলবে বলে মনে হয় না।

যাই হোক, লেখাটা শেষ করবো গত ২২শে জুলাই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার এক বিবৃতি দিয়ে। ঐ দিন এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসকে সিনহা বলেছে- “সিলেটের সঙ্গে ভারতের ৭টি করিডোর আছে। এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এসব কাজে লাগিয়ে সিলেটের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।”

চীন-ভারতের মধ্যে যুদ্ধ এখন চিকেনস নেক নিয়ে, যার সমাধানে ভারতের একমাত্র ভরসা হচ্ছে বাংলাদেশের করিডোর। সেই কোরিডোর নিয়ে যখন এসকে সিনহার বক্তব্য দেয়, তখন তার অবস্থানটাও পরিস্কার হয়।

আমার অনুমান হচ্ছে-
এতদিন চীন-পাকিস্তান চাইতো ভারতকে ভেঙ্গে দিতে, এখন আমেরিকাও সম্ভবত চাওয়া শুরু করছে। যার সূত্র পাওয়া যাচ্ছে ভয়েস অব আমেরিকার খবরে। ধারণা হচ্ছে- মোদি কয়েকদিন আগে ইসরাইলে গেছিলো ইহুদীদের পা ধরতে, যেন তারা সমঝোতা করে দেশটা ভেঙ্গে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। চীন-পাকিস্তান-আমেরিকাকে থামায়। কিন্তু মোদির সে আশায় সম্ভবত গুড়ে বালি। ভারত ভেঙ্গে টুকরা-টুকরা হওয়াটা মনে হচ্ছে সময়ের ব্যাপার মাত্র।

print

LEAVE A REPLY