মাদ্রাসার গরীব ছেলেটা কি সত্যি জঙ্গী ছিল?

রির জন্য ঢাকায় এসেছে শুক্রবারে।সোমবারে বাসায় কথা বলেছে! আর মঙ্গলবার সকালে লাশ!
পুলিশের আইজিপি যে বক্তব্য দিয়েছেন ছেলেটিকে জঙ্গী সাজিয়ে তা যথেষ্ট হাস্যকর,দূর্বল স্ক্রিপ্ট! পুলিশের আইজিপির বক্তব্য শুনে ছেলেটি যে জঙ্গী ছিল না এইটা নূন্যতম বুদ্ধি যার আছে সেও ভাবতে বাধ্য হবে।
আইজিপির বক্তব্য -শোক দিবসে শত শত মানুষ মারার জন্য জঙ্গীরা প্ল্যান করেছিল। এবং গোয়েন্দারা সারা রাত জঙ্গীদের ফলো করেছে! এবং শেষে জানতে পারে জঙ্গীরা হোটেলে অবস্থান করছে! এবং জঙ্গীটির কাছে যে বিস্পোরক ছিল তা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। এবং একজন পুলিশের গায়ে একটু কাঁচের টুকরো লাগা ছাড়া আর কারোই কিছু হয়নি!
পয়েন্ট ১-লক্ষ্য করুন আইজিপি বলেছে, জঙ্গীরা প্ল্যান করেছিল শত শত মানুষ মারার এবং এই উদ্দ্যেশ্যেই জঙ্গীরা আবাসিক হোটেলে উঠেছে।
প্রশ্ন – অথ্যাৎ একজন না একের অধিক জঙ্গী ছিল ! তাহলে একজন কেন? বাকী জঙ্গীরা কি সাইফুলকে মরার জন্য রাইখ্যা গেছে ? ‘জঙ্গীরা’ হোটেলে অবস্থান করেছে মানে কয়েকজনই ছিল। নাকি?
আচ্ছা তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম আইজিপির কথা সত্য। একের অধিক ছিল। আমরা আরো ধরে নিলাম,বাকী যারা ছিল তারা গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে! যারা পালালো তারা ধানমন্ডির কোথাও ফাটাল না কেন? যখন কয়েকজন মিলে একটি প্ল্যান করে তখন একজন ধরা খেলে আরেকজন সেটা বাস্তবায়ন করবে এটাই ত স্বাভাবিক।
পয়েন্ট ২- গোয়েন্দারা সারা রাত জঙ্গীদের ফলো করেছে!
প্রশ্ন- সারারাত ফলো করছে কিন্তু জঙ্গী ধরেনি? যেখানে সন্দেহ হলেই গ্রেফতার করা হয় সেখানে জঙ্গীদের ফলো করেছে? আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যেই বোমা ফাটাবে জঙ্গীরা শতশত মানুষ মারার জন্য এমন সিচুয়েশনে যেখানে সন্দেহভাজন মানেই গ্রেফতার সেখানে ফলো ? হাউ ফানি!
শক্তিশালী বিস্পোরক,একজন পুলিশের গায়ে কাঁচের টুকরো লেগে সামান্য আহত এইসব নিয়ে আর নাইবা প্রশ্ন রাখলাম!
একই টাইপের স্ক্রিপ্ট দেখতে দেখতে ক্লান্ত। অনেস্টলি স্পিকিং, আমাদের বাসার কাজের মেয়েটাকে যদি পুলিশ জঙ্গী ঘটনাগুলোর স্ক্রিপ্ট লেখার দায়িত্ব দেয় তাহলে মেয়েটা এমন স্ক্রিপ্ট লিখবে যে ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনই বিশ্বাস করবে আসলেই সাইফুলরা জঙ্গী।

আহমেদ আরিফ

print

LEAVE A REPLY