বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের জনপদ: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের জনপদ। দেশে অপহরণ ও গুমের সংখ্যা বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের দিন বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, দেশে ক্রমেই গুম বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি গত এক সপ্তাহে আমরা অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে এর মাত্রা আরও বেড়েই চলেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ২০০৯ সাল থেকে আজ  পর্যন্ত এক হাজারের উপরে নেতাকর্মীকে গুম-খুন করা হয়েছে।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এ মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে- তিনিও স্বীকার করেছেন এখানে গুমের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের জনপদ। বিনা বিচারে হত্যা-গুম এখন নিত্যদিনকার ঘটনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ গুম-হত্যার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গুম হওয়া পরিবার, মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংঘটিত সব গুমের আঙ্গুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর র‌্যাব-পুলিশের দিকে।

ফখরুল জানান, গুমের প্রায় সব ঘটনার বিষয়গুলো জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কাছে পাঠিয়েছি। কয়েকটি ঘটনার তদন্তও চলছে।

বিএনপি মহাসচিব জানান, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান গত ২৭ আগস্ট রাতে নয়া পল্টন থেকে সাভারে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এখনও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গুমের সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে কারও কারও লাশ পাওয়া বা আটক ব্যক্তিটিকে জনসমক্ষে হাজির অথবা কোনো থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।

অতীতে গুমের ঘটনাগুলো সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ও অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বার বার অস্বীকার করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তে গুম প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে, বলেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পত্রিকার পাতা খুললে প্রায় প্রতিদিনেই এরকম অপহরণ কিংবা অপহরণের পর গুম অথবা অপহৃতের লাশ পাওয়ার সংবাদ দেখা যায়। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমরা আবারও দাবি জানাচ্ছি, যারা গুম হয়েছেন তাদেরকে পরিবারের কাছে  ফেরত দেয়া হোক এবং গুম বন্ধ করা হোক।

গুম ও অপহরণ ঘটনা গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয় না বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, খুব দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা লক্ষ্য করছি, মিডিয়াতে এ বিষয়গুলো সেভাবে গুরুত্বসহকারে প্রচার করা হয় না। আমরা মনে করি, গুম করা হচ্ছে- মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় হীনতম অপরাধের একটি। এ বিষয়টা যদি হালকা করে  দেখা হয়, তাহলে কেউই নিরাপদ নয়। তাই গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দেবেন।

তিনি বলেন, গত এক সাপ্তাহের মধ্যে তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অপহরণ করে গুম করে রাখা হয়েছে। ব্যালারুসের অনারেরী কাউন্সিলর অনিরুদ্ধ রায়, বিএনপির নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদকে গুম করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলম, গোলাম আজমের ছেলে আমান আজমী ও মীর কাশেম আলী ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান দীর্ঘদিন ধরে গুম হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনের আগে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত গুম হওয়া নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের দুর্দশার ওপর নির্মিত ‘এনফোর্স ডিসএপিয়ারেন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রামাণ্য চিত্র সাংবাদিকদের দেখানো হয়।

print

LEAVE A REPLY