বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় সাংবাদিক ও মিডিয়ার অপপ্রচারের রহস্য কি?

গল্পটি লিখেছেন বিশিষ্ট ইণ্ডিয়ান সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক। তিনি নিজ দেশ সহ আঞ্চলিক বিভিন্ন গনমাধ্যমের জন্য কাজ করার পাশাপাশি BBC বাংলার উত্তর-পূর্ব ইণ্ডিয়ার প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় অনেক সাংবাদিক তাকে গুরু বলে মানেন!
সুবীর ভৌমিক শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর Myanmar এর Yangon থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত Mizzima English Weekly Magazine-এ “Bangladesh’s Hasina survives another attempt on her life” শীরোনামে খুবই চাঞ্চল্যকর খবর লিখে তা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমার প্রশ্ন, এতো বড় খবর এক মাস পরে র’য়ের এজেন্টের কাছ থেকে দেশবাসীকে শুনতে হবে কেন? এই খবর সত্য না মিথ্যা তা আমরা জানতে চাই!
এটা অসত্য হলে এমন গল্প রচনার মূল টার্গেট কী তা বোঝা যায়। স্পষ্টতই এর টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশের রাষ্ট্র-প্রধান, সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF)। গাঁজাখোরি মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তারপর সেটিকে বিভিন্ন মিডিয়ায় রিসাইকেল করে এরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানটিকে ভেঙে ফেলতে চাইছে!
বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরনার্থী নীতি ওরা মানতে পারছে না; যে নীতির ভিত্তিতে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের দমন নিপীড়নে অতীষ্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এমনকি হেফাজতে ইসলাম পর্যন্ত; ডান -বাম সকলে নিজেদের শক্তি, সামর্থ ও সংগতি নিয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। সরকার যখন এই রিলিফ কর্মযজ্ঞ সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশর সশস্ত্র বাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছে, তখন সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে চৌকশ ইউনিট SSF-কে টার্গেট করে ভারতের প্রভাবশালী সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের ফাঁদা গল্পের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে মোটেই কষ্ট হয় না।
ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের মূখপাত্র এই গল্পের মাধ্যমে বলতে চাইছে, ‘বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতর জেএমবি ঢুকে পড়েছে। জেএমবি’র পেছনে পাকিস্তান আছে। পাকিস্তানীদের আরেক ফ্রন্ট রোহিঙ্গা! এই শরনার্থীদের সাথে আর্মিকে মেলামেশা করতে দিলে সর্বনাশ হয়ে যাবে!’
বিষয়টিকে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভীতিশীল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য এই চক্র একই সময়ে লণ্ডনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাথে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থ্যার বৈঠকের মিথ্যা খবরও যোগ করেছে। যাতে করে মনে হয়, ‘সবকিছু সম্পর্কিত’!
স্পষ্টতই, এই গল্পের টার্গেট ১/ বাংলাদেশ আর্মি (সেজন্য SSF-কে জড়িয়েছে) ২/ রোহিঙ্গা শরনার্থী, ৩/ বিএনপি। এদের সম্পর্কে সমাজ ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভীতি সৃষ্টি ও এই তিন পক্ষকে Discredit করার জন্য লেখক জেএমবি ও পাকিস্তানকে এর ভেতর ঢুকিয়েছে।
রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সহায়তা দেবার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশকে বিভক্ত করার জন্য ওরা এই কাহিনীকে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও ‘সুশিল সমাজ’-এর কাছে বিশ্বাসযাগ্য করতে চায়।
এমন উদ্দেশ্য প্রনোদিত প্রচারণার একটা প্যাটার্নের সাথে আমাদের পরিচয় আছে। ইতিমধ্যে এই গল্পটি BBC-র বাংলা (সাবির মুস্তফা লুফে নেয়ার জন্য ওঁত পেতে বসে আছে) অনুষ্ঠানে প্রচারিত না হলেও, আগামীকাল বা পরশু তা হয়ে যাবে। তারপর বাংলাদেশের সবগুলো পত্রিকা ও রেডিও- টেলিভিশন চ্যানেল BBC-র বরাত দিয়ে একযোগে এই খবর প্রকাশ করে সকলকে বিগড়ে ও বিভক্ত করে দেবে।
শেখ হাসিনাকে নয়; আসলে হত্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে- বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে তাকে! সকলকে এই হত্যা প্রচেষ্টার বিষয়ে সাবধান, সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
ওয়াহিদুজ্জামানের ফেসবুকে থেকে

print

LEAVE A REPLY