অবশেষে জানা গেলো প্রধান বিচারপতির ছুটির আসল কারণ !

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটিতে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠাতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে ছুটিতে যেতে কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন তারাই তার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে চিৎকার করছেন। তারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করতে চেয়েছিলেন। এ ধরনের স্প্যাকুলেশন (জল্পনা) করার কোনো কারণ নেই। ওনারা কেন স্প্যাকুলেশন করেন তা আমি বুঝি না। আমার মনে হয় ওনারা কিছু একটা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছিলেন। এ জন্যই তারা কান্নাকাটি শুরু করেছেন।

প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আনিসুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতি তার চিঠিতে লিখেছেন যে, তিনি ক্যান্সার এবং নানাবিধ রোগে আক্রান্ত। সেগুলো যেহেতু সম্পূর্ণ সারেনি, তিনি বলেছেন, তার আরো বিশ্রামের প্রয়োজন। সেজন্য একমাসের ছুটি নিয়েছেন।

অসুস্থতার কথা জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একমাসের ছুটিতে যাওয়ার পর সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাষ্ট্রপতিকে ছুটির বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানানোর পর গত সোমবার রাতেই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা অভিযোগ করছেন- ছুটিতে যেতে প্রধান বিচারপতিকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, চাপের কোনো সম্পর্ক নেই। তাকে কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

আইনমন্ত্রী বলেন, তারা বলে দিলেন, এটি নজিরবিহীন। মানুষ অসুস্থও হতে পারবেন না। এর আগে যেহেতু হয়নি, এখনও কেউ অসুস্থ হতে পারবেন না? তাদের অবাস্তব কথার জবাব দিতে এখানে বসিনি।

আনিসুল হক বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ার পরে প্রধান বিচারপতি নিজের ছুটি নিজেই নেন। এটি কারো অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু যেহেতু তিনি ছুটিতে যাবেন, ছুটিতে থাকার সময় অন্য একজন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে কারণে তিনি রাষ্ট্রপতিকে তার ছুটির বিষয়ে অবগত করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, প্রধান বিচারপতি যখন অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কাজ করতে অসমর্থ হন, তখন যিনি কর্মে প্রবীণতম বিচারপতি, তিনি প্রধান বিচারপতির অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে এখানে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা প্রবীণতম বিচারপতি। তাকে অস্থায়ী দায়িত্বভার দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটি তো স্বাভাবিক জিনিস, আইনানুগ জিনিস।

মন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি আমাদেরকে জানিয়েছেন, আমরা তাকে বিশ্বাস করি। তিনি বলেছেন, তিনি অসুস্থ, এর ওপরে আমি কোনো প্রশ্ন করতে রাজি না। তিনি যেভাবে আমাদেরকে বলেছেন, ঠিক সেভাবে যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট চলতে হবে এবং সাংবিধানিকভাবে প্রভিশন অনুসারে একজন অ্যাক্টিং চিফ জাস্টিস থাকবেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সঙ্গে তার ছুটিতে যাওয়ার আলোচনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রায়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরে রায় সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ-সমালোচনা করা একটি অধিকার। আমরা সংক্ষুব্ধ পার্টি হিসেবে এ রায়ের কি ব্যবস্থা নেব জাতীয় সংসদে সেটি প্রস্তাব আকারে পাস হয়েছে। সেখানে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং সেটি পাস হয়েছে। সে কারণে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিশ্চয় নেব। তার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির ছুটির সাথে সম্পর্ক নেই। এটিকে যদি কেউ কানেক্ট করতে চান, আমি মনে করবো, তাদের একটি দুরভিসন্ধি আছে’।

একমাস ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসবেন, তার তো সময় আছে এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি এবং দোয়া করি’ ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে ফিরবেন।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় পর্যবেক্ষণ এবং তা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রিভিউ করা হবে বলেও জানান তিনি।

print

LEAVE A REPLY