রেকর্ড করে সাজঘরে মুমিনুল

প্রায় দুই সেশন খেলার পর কিছুক্ষণ আগেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল হক। তার সাথে লিটন দাসের জুটি দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে ম্যাচ বাঁচানোর পথ।

তবে রেকর্ডের এই ইনিংসটি আরও বড় করার সুযোগ হারিয়েছেন বাংলার ব্র্যাডম্যান খ্যাত এই ব্যাটসম্যান। ৭৮তম ওভারে দলীয় চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। রবিবার এই ওভারটি শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৮১ রান। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের লিড ৮১ রানের। দিনের খেলা বাকি আছে আরও অন্তত ৩১ ওভার। ম্যাচটি ড্র করতে বাকি ওভারের বেশিরভাগ সময় ব্যাট করতে হবে টাইগারদের।

প্রথম ইনিংসে মুমিনুলের ১৭৬ রানের ইনিংসের বড় ভূমিকা ছিল দলকে ৫১৩ রানের সংগ্রহ এনে দেয়ার পেছনে। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের প্রয়োজনে আবার চওড়া হয়েছে তার ব্যাট। দ্বিতীয় ইনিংসে দল ৮১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর লিটন দাসের সাথে তার ১৮০ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি বাংলাদেশকে দেখাচ্ছে ড্রয়ের পথ। তবে ৭৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যক্তিগত ১০৫ রানে তিনি উইকেট হারান ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে। ফলে ভেঙে যায় লিটনের সাথ তার জুটি।

তবে লিটনও আছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পথে। অপরাজিত আছেন ৮৭ রানে। সঙ্গী নতুন ব্যাটসম্যান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার রান ৩।

এই টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে মুমিনুল করেছেন মোট ২৮১ রান। যা কোন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের এক টেস্টে সর্বোচ্চ রান।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক টেস্টেই দুই সেঞ্চুরি মুমিনুলের

ক্রিকেট ইতিহাসে সব দেশের থাকলেও কেবল বাংলাদেশের এক টেস্টের দুই ইনিংসেই কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল না। মুমিনুল হক কি অসম্ভব প্রয়োজনের সময় অভিজাত সেই তালিকায় দেশ ও নিজের নাম লিখে দিলেন! প্রথম ইনিংসে ৫০০ বা তার বেশি রান করে দু’বার টেস্ট হারার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। শনিবার যখন শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১১৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করে তারা, ইতিহাস পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল অনেকের মনেই। তবে ক্রিজে যে ছিলেন মুমিনুল! রোববার তিনি দেশকে হারতে না দেয়ার পণ নিয়েই নেমেছেন ব্যাটিংয়ে। প্রথমেই ভেঙেছেন এক টেস্টে কোন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এরপর লিখেছেন সেঞ্চুরির রেকর্ড। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি। আর দলকেও দেখিয়ে দিচ্ছেন ড্রয়ের পথ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৭১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৩৮ রান। ৩৮ রানের লিড তাদের।

লঙ্কান চায়নাম্যান বোলার লাকশান সান্দাকানের করা ৭১তম ওভারের তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে মুমিনুলকে স্ট্রাইকিং প্রান্তে দেন লিটন দাস। বাংলার ব্র্যাডম্যান তখন ব্যাট করছেন ৯৯ রানে। তার একটি রানের দিকে চেয়ে আছে দেশের সকল ক্রিকেটপ্রেমি। পরের বলে কোন রান নিলেন না মুমিনুল। ওভারের পঞ্চম বলটি কাভার পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে এক রান পূর্ণ করে ছুঁলেন নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির ইনিংস। সাথে সাথে বাধা পড়লেন সতীর্থ লিটনের আলিঙ্গনে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে যে ক্রিকেটের এই শিল্পী করেছেন টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ভীষণ প্রয়োজনের সময় ১৫৪ বলে এই শতক হাঁকিয়েছেন মুমিনুল।

বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৭ জন ক্রিকেটার টেস্ট খেলেছেন। তাদের মাঝে ২৬ বছর বয়সী মুমিনুলই নিজের ২৬তম টেস্টে এসে গড়েছেন দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার সম্মানের রেকর্ড।

বিশ্বের ১০ টেস্ট খেলুড়ে দলের (আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড বাদে) এখন পর্যন্ত ৮২ জন খেলোয়াড় এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড করেছেন। মুমিনুল এই তালিকায় ৮৩তম ও প্রথম বাংলাদেশি।

মুমিনুল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ছয় সেঞ্চুরির পাঁচটিই করেছেন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এই মাঠে তার রান ৫০ পার হলেই সেটি রূপান্তরিত হয়েছে সেঞ্চুরিতে। একটি কাকতালীয় ব্যাপারও ঘটেছে রোববার। চার বছর আগে ঠিক আজকের তারিখেই শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন। তার ইনিংস দুটি ছিল যথাক্রমে ৩১৯ ও ১০৫ রানের। চার বছর পর শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা দিবসে মুমিনুল লঙ্কানদের বিপক্ষে গড়েছেন এই কীর্তি।

rtnn

print

LEAVE A REPLY