সোনালী দিনের মানুষ

♣যুবাইর ইবনুল আওয়ামের সাথে যে সময় আসমা রা.এঁর বিয়ে হয় তখন যুবাইর অত্যন্ত দরিদ্র ও রিক্তহস্ত। তাঁর কোন চাকর-বাকর ছিল না এবং একটি মাত্র ঘোড়া ছাড়া পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য কোন সম্পদও ছিল না। তবে যুবাইর রা. একজন পূর্ণবতী ও সৎকর্মশীলা স্ত্রী লাভ করেছিলেন। তিনি স্বামীর সেবা করতেন, নিজ হাতে তাঁর ঘোড়াটির জন্য ভুষি পিষতেন ও তাঁর তত্ত্বাবধান করতেন। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে প্রাচুর্য দান করেন এবং তাঁরা অন্যতম ধনী সাহাবী পরিবার হিসাবে পরিগণিত হন।

♦হযরত আসমা রা. বর্ণনা করেছেন। যুবাইর রা. যখন আমাকে বিয়ে করেন তখন একটি ঘোড়া ছাড়া তাঁর আর কিছু ছিল না। ঘোড়াটি আমিই চরাতাম ও ভূষি খাওয়াতাম। খেজুরের আটি পিষে ভূষি বানাতাম। আমি যুবাইরের ক্ষেত থেকে- যে ক্ষেত রাসুল সা. তাঁকে দিয়েছিলেন মাথায় করে খেজুরের আটি নিয়ে আসতাম। ক্ষেতটি ছিল পৌনে এক ফারসাখ দূরে। একদিন আমি খেজুরের আটি মাথায় করে ঘরে ফিরছি, এমন সময় পথে রাসূলুল্লাহর সা. সাথে দেখা। তাঁর সাথে তখন আরও কয়েকজন লোক ছিল। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং তাঁর বাহনের পিঠে উঠে বসার জন্য বললেন। কিন্তু আমি লজ্জা পেলাম এবং যুবাইর ও তার মান-মর্যাদার কথা মনে করলাম। রাসূল সা. চলে গেলেন। বাড়ী ফিরে আমি এ ঘটনার কথা যুবাইরকে বললাম। এরপর পিতা আবু বকর রা. আমার জন্য একটি চাকর দেন। সে-ই তখন ঘোড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে যেন আমাকে মুক্তি দিল। (সিয়ারু আ’লাম আন নুবালা– ২/২৯০–২৯১, তাবাকাত– ৮/২৫০, মুসনাদে আহমাদ– ৬/৩৪৭,৩৫২)
সূত্রঃ- আসহাবে রাসূলের জীবনকথা – প্রথম খণ্ড, ড. আব্দুল মা’বুদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

এত কিছুর পরও কোনো অভিযোগ ছিলো না, সহযোগিতা ছাড়া। যুবায়ের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেই সহযোগিতাটা পেয়েছিলেন সেগুলোও ছিলো আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর বোন আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এর স্বামী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং শশুর আবু বাকার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এদের পক্ষ থেকে।
সহযোগিতা করেছেন, ধৈর্য ধরেছেন, তাকওয়া এবং লজ্জাশীলতা অনুশীলন করেছেন, সহযোগিতা পেয়েছেন আত্মীয়দের – কষ্টের মাঝে অভিযোগ করেননি – আমাকে কিছুই দাওনি, অধিকার তো দূরের কথা, আবার চাকরের মতো খাটাচ্ছো।…আল্লাহ এক সময় সেরা ধনীতে পরিণত করেছে, সেরা সুখী হিসেবে দেখিয়েছে।

♥এই অনুশীলনটাই আমাদের সংসারে বড় অভাব,যদিও সুখের খোজে বিভোর,কিন্তু তা আসার দরজায় ভারী তালা মেরে!

♦আশ্চর্য হবেন সূরা নিসার ১ নাম্বার আয়াতে দুইবার তাকওয়ার কথা বলেছেন, কিন্তু দুইবার দুই ধরণের তাকওয়ার কথা বলেছেন – যদিও থিম একই মনে হয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহ ‘তাকওয়াল্লাহ’ বলেছেন – মানে সমস্ত ক্ষেত্রে তাকওয়া ধারণ করতে হবে, স্পেশিয়ালি সম্পর্কের ক্ষেত্রে। আপনি নিজে কি পেলেন সেইটা আগে না, আপনি নিজে কি কি তাকওয়া পালন করলেন সেটাই বিবেচ্য, সেইটাই পুরষ্কার পাওয়ার জন্য, সেটাই আপনার সফলতার দ্বার।

♠অনেক ইসলাম বিদ্বেষী (প্রগতিশীল, আন্ধা)এইগুলো নিয়ে কাপিয়ে ফেলেন এবং ভাবতে পারেন যে তিনি কষ্ট করেছেন কারণ তার অধিকার আদায়ের সামর্থ ছিলো না, তাইলে মনে রাখেন যে ইসলামের ইতিহাসে তিনিই এমন লোক যিনি আবু জেহেলের থাপ্পর খেয়েছেন, তাকে থ্রেট দিয়েছে কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বাকার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) – এদের হিজরতের সময় যে পর্বতে লুকিয়ে আছেন,বলেন নাই তিনি।

♥তিনি (আসমা রা.)নিজের কাপড়ের আস্তিনে তাদের দু’জনের জন্য খাবার দিয়ে আসতেন নিয়মিত । চিন্তা করুন যে সেই সময়ে যাদের হত্যা করার জন্য লোক পাঠিয়েছে আবু জেহেলরা, মক্কার রাষ্ট্রপ্রতিরা, মক্কার ক্ষমতাসীনরা, ধর্মনেতারা, সংখ্যাগরিষ্ঠরা, সেই সময়ে তিনি সমাজের বিরুদ্ধে একাই দাঁড়িয়েছে, একাই, থাপ্পর খেয়েছে, থ্রেট দিয়েছে সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীনরা, রাষ্ট্রপ্রতিরা, সমাজপতিরা কিন্তু ধমে যান নাই, বলে নাই এই দুজনের কথা। আপনি ভাবেন তার সামর্থ ছিলো না? আপনার তো কেবল সামগ্রিক চিন্তাহীনতা দিয়ে ফেইসবুকই কাপে, আর তার শক্তি ও ধৈর্যতে কেঁপেছে সমস্ত সমাজ-শক্তি-রাষ্ট্র।

♦আপনি আরো দৃঢ়তা চান তার? তাহলে পুত্রের সাথে বৃদ্ধ বয়সের সেই কথোপকথন আরেকবার পড়ে দেখুন – ইসলামের ইতিহাসে যেই কথাগুলো সর্বাধিক গৌর্বান্বিত, সর্বোচ্চ মর্যাদাময়, উচ্চতায় তা মর্যাদাশীলতা এবং সমস্ত শক্তিকেও যেন হার মানায় – সেই বৃদ্ধাবস্থায়ো; আর আপনি ভাবেন তার অধিকার নিয়ে উচ্চতার শক্তি ছিলো না?

♠ছিলো কিন্তু তারা ছিলেন সোনালী দিনের অসীম তাক্বওয়ার ভালোবাসাময় অভীযোগের মানসিকতাহীন এক অনুপম দম্পতী! যারা লজিক শো নয়,ইমপ্লিমেন্ট করেছেন,সুখ ও সংসারের।

♥ তাকওয়া, ইহসান, ইসলামের ফল আপনার সাথে আল্লাহর সম্পর্কের উপর নির্ভর করে, যা আপনার সাথে আল্লাহর সম্পর্কের ভেতর দিয়ে অন্যান্য সবার সাথে সম্পর্কিত। এ সম্পর্ক দায়িত্বের – আল্লাহর প্রতি আপনার, অন্যদের প্রতি আপনার – সমস্ত সৃষ্টির প্রতি – তাওহীদ এটাই; ইখলাসের সাথে আল্লাহর ইবাদাহ; হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদে দায়িত্ব পালন।
Fb/abdulhimd.saifullah
*কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি-আনামুল হক হুমাইদ ভাইকে।আপনি আপনার জানার চাইতে বেশী মেধাবী মানুষ।

আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ( ফেইসবুক থেকে)

print

LEAVE A REPLY