বিজেপি নেতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য; ‘একাত্তরেই বাংলাদেশ দখল করা উচিত ছিল’

ভারতের আসাম রাজ্যের দেশটির ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির নেতা ও রাজ্যসভার এমএলএ শিলাদিত্য দেব বাংলাদেশকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।তিনি সোমবার স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টি করাই ছিল একটি বিরাট ভুল। বিগত দশকগুলোতে আসামে মুসলমানদের যে আগমন ঘটেছে তা এই ভুলের কারণেই হয়েছে।’

শিলাদিত্য আরও বলেন, ‘৭১ সালে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করে (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভুল করেছিলেন। নতুন জন্ম নেয়া বাংলাদেশকে ভারতের অংশ হিসেবে দখল করে নেয়নি কংগ্রেস সরকার। যদি তখন এটিকে ভারতের অংশ করে নেয়া হতো তাহলে ভুলের মাশুলটা আদায় হতো।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, এমন বক্তব্যের পর পত্রিকাটির পক্ষ থেকে শিলাদিত্যের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তখনও তিনি তার বক্তব্যে অটল থেকে বলেছেন, ‘রাজ্যের (আসাম) জনসংখ্যার চিত্র বদলে যাবার পেছনে মূলত প্রতিবেশি দেশটি থেকে মুসলিমদের আগমনই দায়ী।’

গুলশানে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে হত্যা

গতরাতে রাজধানীর গুলশান এলাকার কালাচাঁদপুর থেকে দুটি মৃত নারীদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহতরা হলেন সুজাত চেয়ান (৪০) এবং বেশত চেয়ান (৬৫)। খবরে বলা হয়, নিজ বাসায় খুন হওয়া গারো প্রজাতির উভয় নারী-মা এবং মেয়ে।মা, স্বামী হাসিশ মানচিন এবং তিন মেয়ে-মায়াবী, মাধবী ও সুরভীকে নিয়ে (ক) ৫৮/২ কালাচাঁদপুরে খানবাড়ি সড়কের ছয়তলা একটি বাড়ির চতুর্থ তলায় থাকতেন সুজাত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহতদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে।মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন গুলশান-থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, রাত ১১ টার দিকে তাঁরা লাশ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশদুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে।

সুজাতের বড় মেয়ে মায়াবির স্বামী পিলেস্তা সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ওই বাসায় আসেন এবং সেসময় বাইরে থেকে ফ্লাটের দরজা লাগানো ছিলো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেই স্ত্রী এবং শাশুড়ির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে সাথেসাথে বাড়ির মালিককে খবর দেন। পরে বাড়ির মালিক গুলশান থানায় ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন বলে জানান পিলেস্তা।গুলশান থানার তদন্ত-পরিদর্শক সালাহ উদ্দিন বলেন, নিচতলায় ক্লোজ সর্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৪ টার দিকে সুজাতের বোনের ছেলে সঞ্জীব অপরিচিত চারজনসহ বাসায় এসেছিলেন। তাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার পরই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পারিবারিক দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

গুলশান থানার উপ-কমিশনার এস এম মোশতাক আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, সুজাতকে গলা কেটে এবং তাঁর মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।সুজাতের তিন মেয়ে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার সময় তাঁরা যার যার কর্মস্থলে ছিলেন। তাঁর স্বামী হাশিস মানচিনও সেময় বাসায় ছিলেননা । সুজাতের একমাত্র ছেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নিজ গ্রামে থাকেন।উপ-কমিশনার মোশতাক আহমেদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টির তদন্ত আমরা শুরু করেছি। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসলে সবাইকে জানানো হবে।এছাড়া, সর্বশেষ খবরে জানা যায়, সুজাতের এক মেয়ে ও স্বামী-সহ কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

insaf24

print

LEAVE A REPLY