কুমিল্লার ৩ আসনে আ.লীগের ৫ বিদ্রোহী প্রার্থী

image_67871কুমিল্লা: আসন্ন দশম জাতীয় নির্বাচনে কুমিল্লার কয়েকটি আসনে রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। কেন্দ্রের নির্দেশে অনেক আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন আবার কেউ তার উত্তরসুরীকে রেখেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ভোটারের কাছে তারা নিজেদের স্বতন্ত্র প্রার্থী পরিচয়ে ভোট চাইলেও, ভোটাররা তাদের দেখছেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই।

কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর নির্বাচনী এলাকায় দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে কেন্দ্রের নির্দেশে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছাড় দিয়ে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, তিনি রেখে গেলেন তার যোগ্য উত্তরসুরীকে। তার ছেলে ড. আহসানুল আলম কিশোর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। কিশোর কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী দু’বারের নির্বাচিত এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন। তিনি কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি দলটির কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকলেও তাকে আওয়ামী লীগের বাইরে দেখার সুযোগ নেই। তিনি নিজেও বিভিন্ন সভা সমাবেশে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।

কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়ে মনোনয়নপত্র কেনেন বর্তমান সংসদ সদস্য এবিএম গোলাম মোস্তফা। পরে কেন্দ্রের নির্দেশে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছাড় দিয়ে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন তিনি। কিন্তু এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে এখনও মাঠে আছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রাজী মো. ফখরুল।

রাজী ফখরুল শুধু ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থনম করেন এমনটাই নয়, তিনি ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম মুন্সী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে দেবীদ্বার থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে এ আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী রৌশন আলী মাস্টার। তিনি আওয়াম লীগের টিকিটে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ য়িছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রৌশন আলী মাস্টার আওয়ামী লীগের টিকিট পাবেন এমনটাই শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে এই গুঞ্জন বাস্তব হলো না। দল টিকিট দেয় এবিএম গোলাম মোস্তফাকে। তাই স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র কেনেন রৌশন আলী মাস্টার।

কুমিল্লা-৬ সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদসদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। তার বাবা অ্যডভোকেট আফজল খান প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক।

এলাকাবাসীর মতে, যেসব আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে কিংবা দল কাউকে টিকিট দিয়েছেন সে আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতাকারীদের সাধারণ ভোটাররা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই দেখছেন।

এদিকে, কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে না। কারণ এ ৫ আসনের প্রার্থীরা জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ না পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণ ছাড়াই তারা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

রিটার্নিং অফিস সূত্র মতে-

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় কুমিল্লা-২ (হোমনা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আমির হোসেন এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম মিলন একক প্রার্থী।

অপরদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক আলী আশরাফ, কুমিল্লা-১০ (সদর) দক্ষিণ-নাঙ্গলকোট আসনে আওয়ামী লীগের আ হ ম মুস্তফা কামাল, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগের রেল ও ধর্ম মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

print

LEAVE A REPLY