অবশেষে আপস করলেন গাজী রাকায়েত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক তরুণীকে গাজী রাকায়েতের অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ নিয়ে হইচই ও পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ার পর অবশেষে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। সোমবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই আপস-মীমাংসা হয়। আপসে গাজী রাকায়েত আদাবর থানায় দায়ের করা ৫৭ ধারার মামলা এবং ভুক্তভোগী তরুণীর শ্যামপুর থানায় দায়ের করা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। গাজী রাকায়েত, ভুক্তভোগী ওই তরুণী এবং তার বান্ধবী প্রত্যেকেই উপস্থিত থেকে এই মীমাংসা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি এক তরুণী ফেসবুক মেসেঞ্জারে গাজী রাকায়েতের সঙ্গে তার এক বান্ধবীর কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। যেখানে দেখা যায়, গাজী রাকায়েত ওই তরুণীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ১৬ মার্চ রাজধানীর আদাবর থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা (নং ১৮) দায়ের করেন গাজী রাকায়েত। এনিয়ে আরও বেশি আলোচনা-সমালোচনা শুরু হওয়ায় ওই তরুণী গত ২১ মার্চ শ্যামপুর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধেও মামলা (নং ২৬) দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হওয়ার পর উভয়পক্ষের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সমাধানের জন্য আলোচনা শুরু করেন। পরে গাজী রাকায়েত এবং ওই দুই নারী একসঙ্গে বসে একটি যৌথ ঘোষণার স্ট্যাম্পে সই করেন। গাজী রাকায়েত তার ঘোষণায় বলেছেন, ‘আমার ফেসবুক আইডি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি আমার অজান্তে কে বা কারা জনৈকা (নাম প্রকাশ করা হলো না) আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো এবং এরপর সেই মেসেজের স্ক্রিনশট তার বান্ধবীর (নাম প্রকাশ করা হলো না) মাধ্যমে ফেসবুকে প্রকাশ করা হলে সংক্ষুব্ধ হয়ে আমি গত ১৬ মার্চ বান্ধবীর (নাম প্রকাশ করা হলো না) বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা করি। পরবর্তীতে জানতে পারি মামলাটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় লিপিবদ্ধ হয়েছে যা কোনোভাবে আমার অভিপ্রায় ছিল না। তাই আমি নিঃশর্তভাবে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ঘোষণা দিলাম।’

গাজী রাকায়েত ঘোষণায় বলেন, ‘আমার অভিযুক্ত ফেসবুক আইডি থেকে আমি কাউকে কোনও অশ্লীল মেজেস পাঠাইনি। কে বা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা হ্যাক করে আমার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এ ধরনের আপত্তিকর মেসেজ পাঠিয়েছে। এরপরও যেহেতু আমার আইডি থেকেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য আমি তরুণীর (নাম প্রকাশ করা হলো না) কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি।’

এদিকে ফেসবুকে স্ক্রিনশট প্রকাশকারী ভুক্তভোগী তরুণীর বান্ধবী তার ঘোষণায় বলেন, ‘গাজী রাকায়েত কুটু ফেসবুক আইডি থেকে আমার বন্ধুকে (নাম প্রকাশ করা হলো না) আপত্তিকর মেসেজ পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার স্বার্থে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সেই আপত্তিকর মেসেজের স্ক্রিনশট আমার ফেসবকু আইডিতে প্রকাশ করেছিলাম, ব্যক্তি গাজী রাকায়েত হোসেনকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ হয়ে গাজী রাকায়াত আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তিনি জানান, ৫৭(২) ধারায় মামলা করা কোনোভাবে তার অভিপ্রায় ছিল না। তিনি যেহেতু আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, গাজী রাকায়েতের ফেসবুক আইডি ঘটনার সময় তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না, সেহেতু ব্যক্তিগতভাবে তাকে দোষারোপ করার কোনও কারণ নেই। গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে আমার আর কোনও অভিযোগ নেই এবং আমার পোস্টের কারণে তিনি কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।’

অন্যদিকে যার ফেসবুক আইডিতে আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো হয়েছিল সেই তরুণী তার ঘোষণয় বলেন, ‘গাজী রাকায়েত কুটু ফেসবুক আইডি থেকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে আপত্তিকর মেসেজ পাঠিয়ে উত্যক্ত করার প্রতিবাদে সংক্ষুদ্ধ হয়ে আমি আমার বন্ধুকে ফেসবুকে স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সত্য অনুসন্ধানের অনুরোধ করি। আমার পক্ষে ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়ায় আমার বন্ধুর বিরুদ্ধে গাজী রাকায়েত হোসেন আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২২ মার্চ গাজী রাকায়েত ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে আমি শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করি। যেহেতু গাজী রাকায়েত আমার বন্ধুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, গাজী রাকায়েতের ফেসুবক আইডি ঘটনার সময় তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না এবং এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য তিনি আমার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন, তাই আমি নিঃশর্তভাবে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ঘোষণা দিলাম।’

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসরাম বলেন, “ওই তরুণীর ফেসবুক পোস্ট ‘মিসটেক অব ফ্যাক্ট’ হতে পারে। তবে, পুলিশ এই পোস্ট ৫৭ ধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিনা, তা খতিয়ে দেখছে। এছাড়া গাজী রাকায়েত কুটুর আইডিতে সন্দেহজনক আইপির মুভমেন্ট পাওয়া গেছে। ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক সেসব আইপি সিঙ্গাপুরের বলে জানা যায়। প্রয়োজনে সিঙ্গাপুর পুলিশ ও ইন্টারপোল-এর সহায়তায় অপরাধী শনাক্ত করা হবে।’
উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

print

LEAVE A REPLY