কাশিমপুর কারাগার থেকে বিএনপি নেতা আলাল জামিনে মুক্ত

গাজীপুর: বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কাশিমপুর কারাগার থেকে আলাল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, ২৫ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড ও জামিন আবেদন দুটিই নাকচ করে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে রবিবার দুপুরে পল্টন থানার একটি মামলায় পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে তা নাকচ করে আলালকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় ভবনটির ফটক থেকে এই বিএনপি নেতাকে আটক করে পুলিশ। শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির পূর্ব ঘোষিত কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ ও ধর পাকড়ের কারণে কর্মসূচিতে দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপির নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আটক হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

‘আলালকে ভুতুড়ে পরিবেশে রাখা হয়েছে’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে হাড় হিম করা ভুতুড়ে পরিবেশে রাখা হয়েছে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেছেন। রবিবার (৪ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে কাশিমপুর-৪ হাই সিকিউরিটি জেলের একটি সংকীর্ণ নির্জন কক্ষে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা মাত্র তিন ফুট। এরই ভেতরে একটি ছোট্ট অংশ টয়লেট ও গোসলের জন্য ব্যবহার করতে হয়। আলালের কক্ষের নিচতলায় দুর্ধর্ষ ফাঁসির আসামিরা থাকেন।’

‘মূলত হাই সিকিউরিটি কারাগারটি তৈরি করা হয়েছে বিপজ্জনক জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের জন্য। অথচ সেখানেই বিএনপির সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের রাখা হচ্ছে। এক ভয়ংকর অসহনীয় পরিবেশের মধ্যে আলালকে থাকতে দেওয়া হয়েছে। তার সেলে কোনো আলো-বাতাস ঢুকতে পারে না। যে দ্বিতীয় তলায় আলাল সাহেব থাকেন, সেই তলায় আর কেউ থাকেন না। এক হাড় হিম করা ভুতুড়ে পরিবেশ, যেখানে না আছে পানি, না আছে বিদ্যুৎ। অথচ কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় জেলে উচ্চ শ্রেণির ডিভিশন কক্ষগুলোতে ব্যাংকের টাকা লুটপাটকারী ডিজিএম-এজিএমদের জামাই আদরে রাখা হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী রাজনীতিবিদরা এভাবেই সরকারি নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হচ্ছেন কারাগারের বাইরে-ভেতরে সর্বত্র। আমি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ওপর সরকারের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষের পাশবিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার নির্বাচনী মাঠ অসমতল রাখার জন্য দেশব্যাপী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পুরে রেখেছে, গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডের নামে চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানকে রিমান্ডে আনা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। আজিজুল বারী হেলালকে পল্টন থানা, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে শাহবাগ থানা এবং রাজীব আহসানকে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে রিমান্ডের পর রিমান্ডে এনে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন অব্যাহত আছে। এরা সবাই সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতা। হেলাল ও খোকন বর্তমানে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতা। হেলাল, খোকন ও রাজীবকে উৎপীড়ন করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তির তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করা। এক দফা রিমান্ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি মিথ্যা মামলায় আবারও রিমান্ড আবেদন এবং আদালত কর্তৃক তা মঞ্জুরের ঘটনা প্রমাণ করে বিচার-প্রশাসন সবকিছুই সরকারের পকেটে।’

রিজভী বলেন, ‘আজিজুল বারী হেলাল, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং রাজীব আহসান সরকারের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমি দলের পক্ষ থেকে সরকারের এই নির্দয় আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা প্রত্যাহার ও রিমান্ড বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি থেকে যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

print

LEAVE A REPLY