জুনিয়রের হাতে লাঞ্ছিত: রাবি শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একের পর এক জুনিয়রের হাতে সিনিয়র শিক্ষার্থী লাঞ্ছিতের ঘটনায় আমরণ অনশন করেছেন মার্কেটিং বিভাগের প্রসেনজিৎ নামের এক শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে আমরণ অনশন পালন শুরু করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তাকে জোরপূর্বক তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন।

এছাড়া ওই শিক্ষার্থীকে ছাত্র-উপদেষ্টা অপমানসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম হৃদয়কে ছুরিকাঘাতের দায়ে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন প্রসেনজিৎ। এ সময় ছাত্র উপদেষ্টা তাকে দেখে অনশনে বসার কারণ এবং কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কিনা জানতে চায়।

অভিযোগ না দিলে দাবির পক্ষে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। একপর্যায়ে তার হাতে প্ল্যাকার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলাসহ উঠে যেতে বাধ্য করেন। এ সময় প্রসেনজিৎ আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে প্রশাসন ভবন থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে লাগলে তাকে পুলিশ ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।

এরপর সেখান থেকে মার্কেটিং বিভাগে সভাপতির কক্ষে আত্মহত্যা না করার পক্ষে একটি মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর আগে সকালে ওই শিক্ষার্থী উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচর্চার পূণ্যভূমি। এই পূণ্যভূমি একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। দিনের পর দিন কলঙ্কিত হচ্ছে এই ক্যাম্পাস।

খোলা চিঠিতে বলা হয়, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দ্বারা এমবিএ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। যিনি রামেক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনা নতুন নয় এটা নিত্যদিনে ঘটনা হয়ে পড়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষার্থীদের সম্মানহানি হয়েছে। সর্বোপরি ক্যাম্পাসের সব শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে অনশনে বসা শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অনশনে বসলে ছাত্র-উপদেষ্টা আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। আমার হাতে প্ল্যাকার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলাসহ উঠিয়ে দেয়’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘অনশনে বসার একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে পালালে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। পরে সেখান থেকে তাকে বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছি ’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, মার্কেটিং বিভাগের প্রসেনজিৎ নামের এক শিক্ষার্থী প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। পরে তাকে প্রশাসন ও বিভাগের শিক্ষকের সহযোগিতায় তুলে দেয়া হয়েছে।

মতিহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব জানান, ‘বুধবারের ঘটনায় অভিযুক্ত আবু হামজাকে হত্যার পরিকল্পনার মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে অন্যরা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধায় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের পাশে তুথ বাগানের সামনে মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম হৃদয়কে গণিত বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী আবু হামজা ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর জখম হন হৃদয়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

print

LEAVE A REPLY