পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা ফর্মে ফ্রান্স এগিয়ে

সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের লড়াই দিয়ে শুরু হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফর্ম ও দলের অবস্থা বিচারে আজ আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে থাকবে ফ্রান্স।

গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলোতে খুব একটা ভালো খেলতে না পারা আর্জেন্টিনাকে গুঁড়িয়ে দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে ফ্রান্সের।

গ্রিজমান, এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও পগবাদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ফ্রান্স মেসিদের শক্ত প্রতিপক্ষ।

মুখোমুখি সাক্ষাতে লাতিন পরাশক্তিরা এগিয়ে থাকলেও ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অতীত রেকর্ড।

পেনাল্টি শুটআউট বাদ দিলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ১১ ম্যাচে ফরাসিদের হার মাত্র একটি।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে একমাত্র গোলে হেরেছিল ফ্রান্স। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা এর আগে মুখোমুখি হয়েছে ১১ বার।

আর্জেন্টিনা ছয়টি ও ফ্রান্স দুটি ম্যাচে জিতেছে। বাকি তিন ম্যাচ ড্র।

কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি ফ্রান্স। মুখোমুখি ১১ ম্যাচের আটটিতেই আর্জেন্টিনার জালে একবারও বল জড়াতে পারেনি ফরাসিরা।

১৯৭৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮তে নিজেদের মাঠে একমাত্র বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স।

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ১৩ ম্যাচের ১২টিতে কমপক্ষে শেষ ষোলোয় খেলার রেকর্ড রয়েছে আর্জেন্টিনার।

একমাত্র ২০০২ জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যায় তারা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এর আগে ৬৬৬ মিনিট খেলে কোনো গোল করতে পারেননি আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি।

অবশ্য ফ্রান্সের বিপক্ষে সবশেষ গোল পাওয়া আর্জেন্টাইন ফুটবলার তিনিই।

২০০৯ সালে এক প্রীতি ম্যাচে ফরাসিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচে একটি গোল করেছিলেন বার্সেলোনা তারকা।

আজকের ম্যাচে মেসিদের আরেক প্রতিপক্ষ হলুদ কার্ডের শঙ্কা। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে হলুদ কার্ড দেখেছেন মেসি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে আর একটি হলুদ কার্ড পেলে আর্জেন্টিনা জিতলেও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবেন না মেসি।

ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কোনো খেলোয়াড় দু’বার হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে তাকে বেঞ্চে বসে থাকতে হবে।

এই নিয়ম চলবে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত। হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় আছেন আরও পাঁচজন- মাসচেরানো, অ্যাকুনিয়া, ওতামেন্দি, মার্কোদো ও বানেগা।

মেসিসহ ছয়জনের যে কোনো একজন ফ্রান্স ম্যাচে হলুদ কার্ড পেলে দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও মাঠে নামতে পারবেন না।

ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের চিন্তা তার প্রথম পছন্দের ফরোয়ার্ড তারকা গ্রিজমানের পড়তি ফর্ম।

যদিও নকআউট পর্বে নিজের দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দেশম বলেন, ‘নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে।

আমরা যা চেয়েছি সেটি করতে পেরেছি। এখন আমাদের সামনে পাহাড়সম বাধা। আমরা লক্ষ্যে অটুট।

শেষ আটে ওঠার লড়াইটি জেতার দিকেই আমাদের পুরো মনোযোগ।’

প্রথম দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকার পর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আলো ছড়ানো আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসিকেই বড় হুমকি মানছেন ফরাসি গোলরক্ষক স্টিভ মাঁদানদা, ‘আমাদের ভালোভাবে রক্ষণ সামলাতে হবে। তবে মেসি এরপরও গোল করার সামর্থ্য রাখে।’

অল্প স্বল্প

* বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২৫০০তম গোল হয়েছে এবার

* বিশ্বকাপ ইতিহাসে আত্মঘাতী গোল ৫০ ছুঁয়েছে

* বিশ্বকাপে ৫১তম হ্যাটট্রিক- ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো- পর্তুগাল, বিপক্ষে স্পেন

* গ্রুপপর্ব পদ্ধতি আসার পর জার্মানি প্রথমবার প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েছে। ৮০ বছর আগে

তারা যেবার শুরুতেই ছিটকে যায়, তখন ১৬ দলের বিশ্বকাপ শুরুতেই ছিল নকআউটের

* জাপান ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ফেয়ার প্লের পয়েন্টে নকআউটে উঠেছে। আর

সেনেগাল প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিয়েছে।

print

LEAVE A REPLY