মেসি-নেইমার গোল মিস করলেও শেখ হাসিনা মিস করবেন না: নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহম্মদ নাসিম বলেছেন, বিশ্বকাপের মাঠে মেসি-নেইমার গোল মিস করতে পারে কিন্তু নির্বাচনের মাঠে শেখ হাসিনা গোল মিস করবেন না।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে ৩৬তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, খেলার মাঠে যেমন নিয়ম আছে তেমনি নির্বাচনের মাঠেও নিয়ম আছে। ইচ্ছে হলেই সেই নিয়ম বদলানো যাবে না। সেই নিয়ম পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ ভোট দেবে। এবারো যদি মাঠ ফাঁকা থাকে তাহলে আমরা ফাঁকা মাঠেই গোল দেব।

বিএনপির এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে নাসিম বলেন, ‘বিএনপির এক নেতা বলেছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না।’ তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমরা পার পেতে চাই না, আমরা সংবিধান মানি। যা করার সংবিধানের আলোকেই করব। যারা সংবিধান মানেন না তাদের পক্ষেই এসব কথা বলা সম্ভব।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মওদুদ বলেছেন সংবিধান ছাড়াও নির্বচান করা সম্ভব। এ কথা তিনিই বলতে পারেন। কারণ তিনি দেশের একটি দল ছাড়া সব দল করেছেন। তিনি সামরিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ করতে চাই না। কিন্তু যখন গ্রেনেড হামলা হলো তখন বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় ছিল। শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গিয়ে আইভি রহমানসহ ২৪ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে। আর তারা আমাদের সঙ্গে তামাশা করেছে। তদন্তের নামে জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সেই হত্যকাণ্ডের বিচার হয়েছে। বিচারের রায়ে অবশ্যই দোষীরা সাজা পাবে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের সেবার জন্য তিন বছর গ্রামে থাকতে হবে। সেই দায়িত্ব নিয়েই গ্রামে যেতে হবে। গ্রামে যেন কারো সমস্যা না হয় সে জন্য প্রত্যেককে নিজ জেলায়, নিজ উপজেলায় পদায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। বিবাহিত হলে স্বামী-স্ত্রীকে একই জায়গায় পদায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। আলোকিত হয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আশা করছি গ্রামে থাকে কারো কোনো সমস্যা হবে না। পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে কোনো চিকিৎসককে যেন নির্যাতনের শিকার হতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ জন্য মানহীন অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বড় আইনজীবী ধরে আদালতের মাধ্যমে তারা ভর্তি কার্যক্রম চালিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে আদালতের ছাড় দেয়া ঠিক নয়। বেসরকারি পর্যায়ে এমন মেডিকেল কলেজও আছে যারা গর্মেন্টেস’র পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন বাড়ানো সম্ভব না হলেও সম্প্রতি ৭৫০টি আসন বাড়ানো হয়েছে। এতে আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। দু’এক মাসের মধ্যে আরও ৭ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জামালউদ্দিন চৌধুরী, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা প্রমুখ।

এ সময় জানানো হয়, ৩৬তম বিসিএস-এ নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮০ জন চিকিৎসকের যোগদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ১৪২ জন পুরুষ এবং ৫৬ জন নারী সহকারী সার্জন হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে যোগাদান করবেন। যোগদানের আগে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরে তাদের একটি ওরিয়েন্টেশন কোর্সে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ৩৬ তম বিসিএস’র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় এবং লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালে তাদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে এ নিয়োগ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়।

print

LEAVE A REPLY