ঢাকার বেগমবাজার নামকরণের ঘটনা জানালেন তাকি উসমানি

প্রতি রবিবার জামিয়া দারুল উলূম করাচির জামে মসজিদে হযরত শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানির ইসলাহি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। উলামা, তলাবা এবং সাধারণ মুসলমানদের উপচেপড়া অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে খুটিবিহীন বিশালায়তনের পুরো মসজিদ।

এতে আল্লামা তাকি উসমানি ইলমি, আমলি এবং আকাবির ও আসলাফের মাওয়ায়েজ এবং অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষনীয় ঘটনাপঞ্জি তাঁর স্বভাবসুলভ চমৎকার ভঙ্গিতে তুলে ধরেন।

গত রবিবারের মজলিসে এমনি একটি শিক্ষণীয় ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, মুহতারাম হাজিরিন!

আল্লাহ তা’আলা আমাদের যে ধনসম্পদ দান করেছেন, দারিদ্রতা গ্রাস করে নেয়ার পূর্বেই তার মূল্যায়ন করুন। কারণ, মানুষের অবস্থা কখনও স্থিতিশীল নয়। আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করুন!

কখনো দেখা যায় মানুষ তার সম্পদের মোহে পড়ে অন্যদের ভর্তসনা করতে শুরু করেন।অহংকার, গর্বে ফেটে পড়েন। অন্যদের গোলাম বানিয়ে রাখতে চান।

অথচ, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, ‘হে আল্লাহ! যে সম্পদ আমাকে আপনার অবাধ্যতা এবং গোমরাহিতে নিমজ্জিত করে দেয়, তা থেকে আপনি আমাকে হেফাজত করেন।’

তবে এই ধনসম্পদ যদি আল্লাহর আনুগত্য এবং সন্তুষ্টি অনুযায়ী ব্যয় হয়, অবশ্যই তা প্রসংসনীয়।

সুতরাং আল্লাহ তা’আলা যাকে ধনসম্পদ দান করেছেন সে যেনো আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেন!

না হয় আল্লাহ্ তা’আলা যে কোন সময় এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করে দিতে পারেন।

আমি আমার স্বচক্ষে এমন অনেক লোক দেখেছি, একসময় তারা অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন, মানুষ তাদের দেখে ঈর্ষা করতো, কিন্তু পরবর্তীতে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যেতো। দুবেলা পেটপুরে খেতেও পেতেন না।

আমার আব্বাজান মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ. প্রায়শই একটি বাস্তব ঘটনা শোনাতেন। ঘটনাটি ঢাকার। যেটি বর্তমানে বাংলাদেশের রাজধানী। সেখানে একজন প্রভাবশালী নবাব ছিলেন। তার ধনদৌলতা, টাকা-পয়সার অন্ত ছিলো না।

অঢেল সম্পত্তি রেখে তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। ছেলে মেয়ে উভয়েই নবাব বাবার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পত্তির যথেচ্ছা ব্যবহার শুরু করলেন।

নিত্যনতুন ফ্যাশন, কাপড়, চোপড় আরো কত কী নেশা তাদের পেয়ে বসলো।

একদিন নবাবকন্যা কোন এক দোকানে কাপড় কিনতে গেলেন এবং সেখানে দোকানি থান থেকে কাপড় ছিঁড়ছিলেন। ঘটনাক্রমে কাপড় ছেঁড়ার শব্দ নবাবকন্যার মনে ধরে গেলো এবং ধীরে ধীরে এটা তার একরকম নেশাও বনে গেলো যে, আমিও এখন থেকে এভাবে কাপড় ছিঁড়বো এবং তার আওয়াজ উপভোগ করবো।

প্রতিদিন চাকরবাকররা বাসায় থানের পর থান কাপড় নিয়ে আসছে আর নবাবকন্যা ছিঁড়ে ছিঁড়ে তার শখ মেটাচ্ছে।

অপরদিকে নবাবপুত্রকে পেয়ে বসলো অন্য আরেকটি অদ্ভুত নেশায়। একদিন সে তার রান্নাঘরে প্রবেশ করে দেশলাইকাঠি জ্বালালে তার কাছে এর আওয়াজ ও গন্ধ ভীষণরকম ভালো লাগলো। সুতরাং নবাবপুত্রও দেশলাইকাঠির প্রেমে মজে গেলো।

নবাবকন্যার মতো সেও যথারীতি চাকরবাকরদের দিয়ে দেশলাইয়ের বহর আনাচ্ছে আর সেগুলো জ্বালিয়ে এর আওয়াজ ও গন্ধ উপভোগ করছে।

সুতরাং দুজন দুই নেশায় মত্ত হয়ে গেলো আর ওদিকে তাদের সব সহায় সম্পত্তি এভাবেই নিঃশেষ হয়ে গেলো। এমনকি একটি সময় এমন আসলো যে, তারা খেতেও পেতো না।

অবশেষে বাধ্য হয়ে উভয় ভাইবোন ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে পড়লো এবং ঢাকার যে বাজারে তারা ভিক্ষা করতো, সে বাজারের নামই হলো ‘বেগম বাজার’।

উৎসঃ   ourislam
print

LEAVE A REPLY