ছাত্রলীগ নেতার কূটকৌশলে ঢাবির ৩ ক্যান্টিন বয় জেলে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান সুজনের কূটকৌশলের স্বীকার হয়ে ১৬ দিন যাবত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের তিন ক্যান্টিন বয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত এই ছাত্রলীগ নেতার হুকুমে গত ১৯ অক্টোবর দূর্গাপূজার দশমীর রাতে ভোর চারটায় ঢাবির হলে কমর্রত তিন ক্যান্টিন বয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে চুরিকৃত তামার ক্যাবল পিকআপে তুলতে গিয়ে হাতেনাতে পুলিশে কাছে ধরা পড়ে। পরে পুলিশ বাদি হয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতাসহ আকটকৃত তিন ক্যান্টিন বালকের নামে মামলা করে। পরে আটকদের কোর্টে চালান করা হয়। তাদের রিমান্ডেও নেয়া হয়। তবে এখনো ধরা পড়েননি ওই ছাত্রলীগ নেতা।

আটককৃত তিনজন হলেন- সেলিম হোসেন, দুলাল হোসেন এবং মিজান রহমান। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের ক্যান্টিনে কাজ করতো। তারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান বলে জানা যায়। অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ সেশনের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে রাজনীতি করেন।

জানা যায়, দূর্গাপূজার দশমীর রাতে তিন বন্ধু একসাথে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও ঢাবির জগন্নাথ হলের মন্দির ঘুরে আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে হলে ফিরে। ফেরার পর তিনজনই হলের মাঠে বসে আড্ডা দেয় রাত আনুমানিক আড়াইটা পর্যন্ত। আড্ডা শেষ করে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে তারা যখন ক্যান্টিনে যাচ্ছিল ঠিক তখনি মোটরসাইকেল নিয়ে মাঠে উপস্থিত হন নাহিদ হাসান সুজন। মোটরসাইকেল থেকে নেমে তাদের কথা বলতে থাকেন ছাত্রলীগের এই নেতা। এমন সময় নাহিদের ফোন বেজে ওঠে। ফোনের অপর প্রান্তে থেকে কি বলা হচ্ছে সেটা শোনা না গেলেও, সুজনের উত্তরে প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারে তিনবন্ধু।

ফোনে সুজন বলেন, তোরা কাজটি তাড়াতাড়ি শেষ কর, দেরি হলে আবার সমস্যা হবে’। এর কয়েক সেকেন্ড পর সুজন আবার ফোনে বলেন, ‘ঠিক আছে আমি চারটা ছেলে পাঠাচ্ছি, তাদের নিয়ে কাজটা দ্রুত শেষ করে ফেল।’ তারপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নাহিদ তাদের বলেন, ‘কিছু ক্যাবল ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পাশে রাখা আছে। তোরা গিয়ে একটি ট্রাকে তুলে ক্যাবলগুলো নিয়ে আসবি। সেখানে আরো কয়েকটা ছেলে আছে। ভয়ের কোন কারণ নেই।’ নাহিদের এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যান তিনবন্ধু। তারা সবাই যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু তাদের বিভিন্ন ধরণের ভয় দেখিয়ে বাধ্য করে এবং বলে তোদের কিছু হবে না আমি সব মেনেজ করব। যদি না যায় তাহলে তাদের চুরি করা বা গাঁজা খাওয়ার কথা বলে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয় সে।

একপর্যায়ে মন্দিরে যাওয়ার জন্যে একটা রিকশা ভাড়া করে দেন নাহিদ। পরবর্তীতে সেখানে গিয়ে পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে তারা। পুলিশের জিঙ্গাসাবাদে ওই ৩ ক্যান্টিন বয় নাহিদ হাসান সুজনের নাম বলে দেয়। পরে মামলার এজহারে আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ৩ ক্যান্টিন বয়, পিকআপ ড্রাইভার, হেলপার ও সুজনকে। অন্য আসামীরা আটক থাকলেও এখনও পুলিশের চোখের সামনে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন নাহিদ। মামলা নাম্বার ৪১, শাহবাগ থানা। মামলার এজহার প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

এ বিষয়ে নাহিদ হাসান সুজন বলেন, ও ছেলেগুলোর সাথে আমার কোন কথাই হয়নি। আমি যখন শুনতে পেলাম ৩ জন ছেলেকে ধরছে তখন আমাকে ওখানকার ঠিকাদার আহাদুজ্জামান চুন্নু কল দেয়। পরে শুনি মামলায় আমার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন আমার নাম কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আমি জানি না। আহাদুজ্জামান চুন্নু এই মামলার সাক্ষী ও এই কাজের ঠিকাদার।

এ ঘটনাকে ডাকাতি আখ্যা দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এর আগেও একই জায়গা থেকে দুইবার ডাকাতি হয়েছে। তৃতীয়বার ডাকাতি করতে গিয়ে ওই তিনজন ধরা পড়ে। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নাহিদ হাসান সুজনের নাম বলে। পরে আমি সুজনকে কল দেই। কিন্তু সুজন এসে আটক ওই তিনজনকে ছেড়ে দেয়ার সুপারিশ করে। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জনাতে বেশ কযেকবার চেষ্টা করা হলেও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। আমরা আটককৃতদের চালান করে দিয়েছি।

উৎসঃ   নয়াদিগন্ত
print

LEAVE A REPLY