প্রার্থীতা ঘোষণার পরই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী পুনরায় প্রার্থী হচ্ছেন। তাকে প্রার্থী করার ব্যপারে ২০ দলীয় জোটের গ্রীন সিগনাল পেয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে তৎপর হতে শুরু করেছেন।

কিন্তু, পুলিশ নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কানাইঘাট থানা পুলিশ নেতা-কর্মী ও সমথর্কদের গ্রেপ্তার করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাসা-বাড়ীতে অভিযান শুরু করায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পুলিশী নির্যাতনের ভয়ে অনেকে বাসা-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

গত শনিবার পুলিশ শিবির নেতা শাকির আহমদ (২৬), জুলাই দাখিল মাদ্রাসার সুপার, জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত মোহাম্মদ আলী (৪৮) ও ব্যবসায়ী জামায়াত কর্মী আজমল শেখ (৪৮) এবং গত রোববার মাদ্রাসা শিক্ষক জামায়াত কর্মী শিব্বির আহমদ (৩৫), ফাযিল পরীক্ষার্থী শিবির কর্মী শাহাজাহান সাহেদ (২৫ ও জামায়াত কর্মী ছিদ্দিক আহমদ (৬৫) কে গ্রেপ্তার করে।

জামায়াত কর্মী সন্দেহে রোববার সন্ধ্যায় দিকে বীরদল এনএম একাডেমীর সহ-শিক্ষক শাহাব উদ্দিনকে পুুলিশ আটক করলেও পরে রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ নুনু মিয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত শিবিরের ৬ নেতা-কর্মীকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলার আসামী দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পুলিশ জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।

অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের মামলা নেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও পুলিশ প্রতিদিন জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাসা বাড়ীতে গিয়ে হয়রানি এমনকি শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের গ্রেফতার করছে।

তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী মাঠে আওয়ামীলীগকে একতরফা সুযোগ করে দিতে পুলিশ উদ্দেশ্যেমূলকভাবে ইসির নির্দেশকে উপেক্ষা করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানী ও নির্যাতন করে যাচ্ছে। এব্যাপারে তারা নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

print

LEAVE A REPLY