‘মুক্ত খালেদাকে’ নিয়েই ভোটে যাবে বিএনপি: আলাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘মুক্ত খালেদা জিয়াকে’ সঙ্গে নিয়েই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে ৪টি বিষয় অবহিত করে চিঠি দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপনি কতটা আশাবাদী- জানতে চাইলে আলাল বলেন, ‘আমরা সর্বশেষ সময় পর্যন্ত আশাবাদী যে, মুক্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।’

তিনি বলেন, ‘যাদের প্রার্থিতা প্রাথমিক পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে সেগুলো আপিলের যে কর্মকাণ্ড এখন চলছে এ কর্মকান্ড বিস্তৃত করা হয়েছে আগামী ৮ তারিখ পর্যন্ত। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি এটা ৮ তারিখ পর্যন্ত না নিয়ে ৬ এবং ৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় কি না। অথবা নির্বাচন কমিশনের নিজেরদের বিবেচনাপ্রসূত কোনও পদ্ধতিতে অতিদ্রুত সম্পন্ন করতে পারলে প্রার্থীদের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে আমরা জানিয়েছি।’

কারণ ৯ তারিখ হচ্ছে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৮ তারিখ ৫টা পর্যন্ত যদি এটি চলতে থাকে তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রার্থীদের প্রস্তুতিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আলাল বলেন, ‘গ্রেফতার ও হয়রানি-বাণিজ্য এখনও চলছে। বাম্পার ফলন যেভাবে হয় সেভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও গ্রেফতারের বাম্পার ফলন শুরু করা হয়েছে। গতকালও একজন মহিলা কমিশনারসহ ও কয়েকজন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে গতকাল কোম্পানীগঞ্জে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাহেবের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে। সেটিও কমিশনকে আমরা অবহিত করেছি এবং এ গ্রেফতার-বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলেছি।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আরপিও’র কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে আমরা বলেছি, এবার যেখানে জোটভুক্ত নির্বাচন করার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে জোটের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকই দেয়া হবে। সে একটি প্রতীক দেওয়ার ব্যাপারে জোটভুক্ত যে প্রার্থীরা থাকবেন একটিই চূড়ান্ত হবেন। এক্ষেত্রে বাকিরা যারা থাকবেন তাদেরকে আমাদের চিঠি দিয়ে জানাতে হবে নাকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে যাবে? ওনারা বলেছেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে যাবে।’

ইসির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আর কোথাও যদি কেউ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী না হন এমন কেউ যদি জোটে থেকে থাকেন তাদের মধ্যে যদি কেউ কোথাও আলাদাভাবে মনোনয়ন জমা দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এমন প্রার্থীদেরকে নিজেদের চিঠি দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেই দল থেকে বলে দিতে হবে। সেই দল যদি নিবন্ধিত না হয় তারপরও নির্বাচন কমিশন তাদের কথাটা শুনবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নিবন্ধিত ৮টি দল ছিল। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে যারা নির্বাচন করবে। পরবর্তীতে সেখানে ১১টি দল হয়েছে। সে সম্পর্কিত একটি চিঠি ইসিকে আমরা আগেই দিয়েছিলাম। সেই চিঠিটি আবার দিয়ে পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছি। যাতে নির্বাচন কমিশন যে প্রচণ্ড কর্মযজ্ঞের মধ্যে আছেন কোনেও ধরনের ত্রুটির কারণে এ জিনিসটির মধ্যে যেন ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’

এ পর্যন্ত যতগুলো চিঠি দিয়েছেন তার কতগুলোর প্রতিকার পেয়েছেন বা আপনারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কতটা আস্থাশীল- জানতে চাইলে আলাল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি যদি আস্থাশীল থাকতাম তাহলে তো সরকারে এখন যারা আছেন, সরকারের প্রতিনিধিদের মতো একমাস পরে একদিন আসতাম। আমাদের তো প্রতিদিনই আসতে হচ্ছে। আমাদের তো যাওয়ার আর কোনও জায়গা নেই।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় থেকে এই প্রথম বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। ২০১৪ সালটা অংশগ্রহণমূলক ছিলো না। যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন, নির্বাচন কমিশন ছাড়া আমাদের অন্য কোনও জায়গা নেই। সুতরাং আস্থা থাকা না থাকার চেয়েও বড় প্রশ্নতো হচ্ছে যে, আমরা যাবো কোথায়? আমাদের তো এখানেই আসতে হবে। সেজন্যই আসা।’

আপিল শুনানি যদি তিনদিন হয় তাহলে আপনারা কি রকম সমস্যার সম্মুখীন হবেন? এমন প্রশ্নে আলাল বলেন, ‘ঝুঁকিটা আমার মনে হয় সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা উনাদেরকে বলেছি যে- ৬-৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে অথবা উনাদের নিজস্ব কোনও উদ্ভাবনী চিন্তার মধ্য দিয়ে যতদ্রুত সম্ভব এটা সম্পন্ন করতে। ৮ তারিখ পর্যন্ত না গেলে ভালো হয়।’

প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে আপনারা কি ভাবছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমাদের যে প্রার্থীরা রয়েছেন বা জোটভুক্ত যে দলগুলো রয়েছে তাদের নিজেদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও কিন্তু সব জায়গায় একটিই বাধা। যেটার কথা আমি বলেছি। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে এবং সেখানে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। সুতরাং ভুয়া এক্সিস্ট্রেশন এ নিয়ে অনেকেই ইচ্ছামত বা সময় মতো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পদে পদে তাদেরকে বাধা দেয়া হচ্ছে। আরেকটু সময় পেলে বাধাটা অতিক্রম করার সুযোগটা থাকে।’

আপনারা যেহেতু বেশিরভাগ আসনেই একাধিক প্রার্থী দিয়েছেন এক্ষেত্রে একক প্রার্থী বাছাইয়ে কোনও সমস্যায় পড়তে হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিষ্পত্তি করতে কোনও অসুবিধা হবে না। আমরা বলেছি এ কারণে যে, মহাসচিব বারবার বলার পরেও কোনও একটি জেলার রিটার্নিং অফিসার তার স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা বৈষম্যের শিকার হতে পারি। আশঙ্কাটা আমাদের মধ্যে ছিল, রয়েছেও।’

ব্রেকিংনিউজ

print

LEAVE A REPLY