ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ভাইরাল

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সাত মিনিটের একটি ভিডিও। এটি সোমবার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলে অধ্যক্ষের কক্ষে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসের কথোপকথনের দৃশ্য।

সেখানে দেখা যাচ্ছে, অরিত্রি ও তার বাবা-মা অধ্যক্ষের কক্ষে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। শব্দ না থাকায় তাদের আলাপচারিতা শুনতে পাওয়া না গেলেও অরিত্রির অভিভাবকদের অনুনয়-বিনয়ের বিষয়টি সহজেই বোঝা যায়। অধ্যক্ষ তাদের কথা পাত্তা দিচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে বিরক্ত মুখে তিনি হাত নেড়ে তাদের চলে যেতেও ইশারা করেন।

অধ্যক্ষের রুমে থাকা সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, অরিত্রির বাবাকে বসতে দেওয়া হলেও তার মা পুরোটা সময়ই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাকে বসতেও বলা হয়নি। যদিও কক্ষে বসার মতো আরও আসন শূন্য ছিল। আগে থেকে দু’জন শিক্ষক অধ্যক্ষের সামনে বসা ছিলেন।

৩ ডিসেম্বর ১১টা ১৮ মিনিট থেকে ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত সময়ের ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রভাতি শাখার ইনচার্জ জিনাত আরা অরিত্রির বাবা ও মাকে নিয়ে ঢোকেন। তারা মেয়ের হয়ে কাতর অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন। এ সময় অরিত্রি মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। অধ্যক্ষ দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাদের কথা শুনছিলেন। একসময় তিনি উঠে যেতে উদ্যত হন। বাধ্য হয়ে অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারীও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। পরে অধ্যক্ষ আবার সিটে বসলে তিনি দাঁড়িয়েই তার মেয়েকে ক্ষমা করার বারবার অনুরোধ জানাতে থাকেন। এরই একপর্যায়ে অরিত্রি অধ্যক্ষের রুম থেকে বের হয়ে যায়। তার বাবা-মা এর কিছুক্ষণ পর বের হন।

গত সোমবার শান্তিনগরে নিজের বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে অরিত্রি। তার আগের দিন পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অরিত্রি পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল নিয়ে টেবিলে রেখে লিখছিল। অন্যদিকে স্বজনদের দাবি, নকল করেনি অরিত্রি।

এরপর সোমবার অরিত্রির বাবা-মাকে ডেকে নেওয়া হয় স্কুলে। তখন অরিত্রির সামনে তার বাবা-মাকে অপমান করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অরিত্রির স্বজনরা বলছেন, বাবা-মায়ের ‘অপমান সইতে না পেরে’ আগেই ঘরে ফিরে আত্মহত্যা করে ওই কিশোরী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়, বাবা-মায়ের আগেই অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায় অরিত্রি। এরপরই সে বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করে।

print

LEAVE A REPLY