আর্টিক্যাল ৬৬ অনুযায়ী নির্বাচনে সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্র আইনবহির্ভূতভাবে বাতিল হয়েছে দাবি করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার তিন মনোনয়নপত্রের বৈধতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন তার পক্ষের তিন আইনজীবী।

গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে তিনজন আইনজীবী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রার্থীতা বৈধতার জন্য এই আপিল করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন গত ২ ডিসেম্বর। আপিল আবেদন জমা দিয়ে আইনজীবি কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, রিটার্নিং অফিসার আইন বহির্ভূতভাবে, অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এটা সরকারের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আমাদের কাছে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তিনটি আসনে প্রার্থীর পক্ষে আপিল দায়ের করলাম। ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বগুড়া-৬ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়নপত্র বৈধতা চেয়ে আপিল করেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধনের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী খালেদা জিয়া নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। আপিল দায়েরের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা আছে। আপিলের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। যেহেতু অতীতে এই অবস্থাতেও অনেককে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়ার রেকর্ড রয়েছে। তাই তার মনোনয়নপত্র বৈধ করে তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া উচিত। তাছাড়া একই আইনে হাজী সেলিমকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কায়সার কামাল। আইন নিজস্ব গতিতে চললে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে দাবি করেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ফেয়ারলি ডিসিশন নিলে ইসি থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে রায় পাব আশা করি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হলে তা প্রহসনের নির্বাচন হবে। দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যে খালেদা জিয়ার সুবিচার চাই আমরা।

রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আপিলে তা ফিরে পাবে বলে আশা করেন খালেদার আইনজীবি কায়সার কামাল। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র যে গ্রাউন্ডে বাতিল হয়েছে তা এখানে প্রযোজ্য নয়। ইসি সংবিধান ও আইন অনুসরণ করলে এবং বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নিলে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। বাছাইয়ে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দেয়া গতকাল শেষ হয়েছে। ৬-৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি করে তা নিষ্পত্তি করবে ইসি। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে।

উৎসঃ   ইনকিলাব
print

LEAVE A REPLY