মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ভুয়া রেকর্ডপত্র করে সরকারি সম্পত্তি বন্ধক দেখিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

মামলার আসামিরা হলেন- মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরিচালক আকরাম হোসেন (হুমায়ুন), সাবেক এক্সিকিউটিভ সদস্য মো. আমান উল্লাহ, এক্সিকিউটিভ কমিটির বর্তমান সদস্য মো. সেলিম, সাবেক সদস্য এসএম সাকিল আখতার, সাবেক সদস্য তৌফিক রহমান চৌধুরী, ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, সাবেক সিনিয়র অফিসার ও বর্তমানে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তনুশ্রী মিত্র, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রবিউল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নবী-উস-সেলিম, ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে এক্সিকিউটিভ কমিটির পরিচালক (সদস্য) মো. আনোয়ারুল হক, এক্সিকিউটিভ কমিটির সাবেক সদস্য মো. মনসুরুজ্জামান ও ঋণগ্রহীতা ৬২/১ পুরানা পল্টনের মেসার্স প্যাট্রিক ফ্যাশনস লিমিটেডের এমডি কাজী ফরহাদ হোসেন।

মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অন্যায়ভাবে লাভবান হতে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ডপত্র করে সরকারি সম্পত্তি বন্ধক দেখিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ঢাকার প্রধান শাখা থেকে ঋণ গ্রহণের নামে ৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে, যা বর্তমানে সুদসহ ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করে।

এটি দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলায় বলা হয়, পুরানা পল্টনের প্যাট্রিক ফ্যাশনস লিমিটেডের এমডি কাজী ফরহাদ হোসেন ২০০০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে ৭ কোটি টাকা, প্যাকিং ক্রেডিট ৭০ লাখ টাকা, ক্যাশ ক্রেডিট (হাইপো) ৫০ লাখ টাকা, টার্ম লোন বাবদ ৪০ লাখ টাকাসহ ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণের জন্য মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রধান শাখায় আবেদন করেন।

ঋণের জামানত হিসেবে তিনি ঢাকা জেলার গুলশান থানাধীন ভাটারা মৌজার সিএস/এসএ দাগ নং ৭৪০ ও ৭৬২-এর ৫.৫০ কাঠা জমি এবং সিএস/এসএ দাগ নং-৩৭৮ ও ৩৭৯ এর ৭.২৫ কাঠা জমি ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধক রাখার প্রস্তাব করেন।

বন্ধকি সম্পত্তি জেলা ঢাকা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এলএ কেস নং-১৩৮/১৯৬১-৬২ এর মাধ্যমে গত ১৯৬৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা তনুশ্রী মিত্র ও মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন বন্ধকীকৃত সম্পত্তি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ২০০০ সালের ১ অক্টোবর মূল্যায়ন রিপোর্ট দেন।

মামলায় বলা হয়, ওই জমি সরকারের অনুকূলে অধিগ্রহণের বিষয়টি তারা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ না করে গোপন করেন।

পরে ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট রবিউল ইসলাম ও সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নবী-উস-সেলিম মিলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রধান শাখায় একই দিন (অর্থাৎ ০১/১০/২০০০) প্যাট্রিক ফ্যাশনস লিমিটেডের অনুকূলে ব্যাক টু ব্যাক এলসির ৭ কোটি টাকাসহ মোট ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুরের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন।

ওই সুপারিশপত্রে তারা বন্ধকীকৃত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে অধিগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ না করে গোপন রাখেন।

এছাড়া ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হক, সদস্য (পরিচালক) মো. মনসুরুজ্জামান, আকরাম হোসেন (হুমায়ুন), মো. আমান উল্লাহ, মো. সেলিম, এসএম সাকিল আখতার ও তৌফিক রহমান চৌধুরী ২০০০ সালের ২২ অক্টোবর ২৬তম সভায় বন্ধকীকৃত সম্পত্তির মালিকানা পরীক্ষা না করে ব্যাক টু ব্যাক এলসির ৭ কোটি টাকাসহ মোট ৮ কোটি টাকা কম্পোজিট ঋণ মঞ্জুর করেন।

ওই ঋণের বিপরীতে ২০০১ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকা জেলার গুলশান থানাধীন ভাটারা মৌজার সিএস/এসএ নং-৭৪০ ও ৭৬২ এর ৫ দশমিক ৫০ কাঠা এবং সিএস/এসএ দাগ নং-৩৭৮ ও ৩৭৯ এর ৭ দশমিক ২৫ কাঠাসহ ১২ দশমিক ৭৫ কাঠা জমি ব্যাংকের অনুকূলে ন্যায়পর বন্ধক রাখা হয়। পরে ঋণগ্রহীতা ৮ কোটি কোটি টাকা কম্পোজিট ঋণসীমা ভোগ করেন।

কিন্তু ঋণগ্রহীতা বিদেশি ক্রেতার চাহিদা ও সময়মতো রফতানি কার্যক্রম সম্পাদন করতে ব্যর্থ হওয়ায় রফতানি আয় থেকে অর্থ ব্যাক টু ব্যাক এলসি’র দায় পরিশোধ হয়নি।

অথচ পরবর্তী ৫ বছরে ৬০টি সমান মাসিক কিস্তিতে প্রতিটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা করে পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। ব্যাংকের পাওনার মধ্যে আসল ৭ কোটি ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৬ টাকা আরোপিত সুদ ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জসহ ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অদ্যাবধি ওই ঋণ আদায় হয়নি।

এভাবে ৯০টি ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে মার্কিন ডলার ১১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ ডলার সমমূল্যের বিল ভ্যালু অপরিশোধিত থাকে।

এভাবে নানা কায়দাকানুন করে ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করল দুদক।

যুগান্তর

print

LEAVE A REPLY