সরকারি সুবিধায় প্রচারণা চালাচ্ছেন মন্ত্রীরা

স্বাস্থ্যখাতে বর্তমান সরকারের ১০ বছরের উন্নয়নের কার্যক্রম তুলে ধরে ভোট চাইলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সরকারি সুবিধা নিয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট চাওয়ার মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আচরণ বিধিমালার ধারা ১৪-এর ২ উপধারায় বলা আছে, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাহার নিজের বা অন্যের পে নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অন্যবিধ সরকারি সুবিধা ভোগ করিতে পারিবেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, তিনি জনসভায় বলেছেন নাকি কোন ধরনের অনুষ্ঠানে বলেছেন এটা না জেনে বলা যাচ্ছে না। তিনি প্রতিবেদককে ভোট চাওয়ার একটি ভিডিও তাকে দেখানোর আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট চাওয়া অনৈতিক। নির্বাচন কমিশনের উচিত এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া।

কোনো প্রার্থী বা তার পে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-পর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

গতকাল সচিবালয়ে ‘সাফল্যের জোয়ারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য : বিশ্বের বিস্ময়’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১০ বছরের সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে আমরা যে উন্নয়ন দেখিয়েছি তার জন্য মা-বোনদের কাছে শেখ হাসিনার জন্য একটি করে ভোট চাই। খালেদা জিয়া তার শাসনামলে হেলথ কিনিকগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমরা সেগুলো আবার চালু করেছি। এটি আমাদের সরকারের বড় অর্জন। তরুণদের প্রথম ভোট হবে স্বাধীনতার পরে শক্তির প। বিগত ১০ বছরে স্বাস্থ্যখাতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এ অবদান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আমি বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা আবার পুনর্নির্বাচিত হবেন।

এ ছাড়াও তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী কাজে সহযোগিতা করছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ব্যক্তিগত স্টাফসহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তারা তাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিষয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। নিজের নামে না পাঠিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এপিএসের নামে প্রেস রিলিজ সংবাদপত্রে পাঠান। এ ছাড়া কয়েকজন জনসংযোগ কর্মকর্তা নিয়মিত মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রীর সাথে তাদের নির্বাচনী এলাকায় সফর করছেন। নির্বাচনী এলাকায় সফরের সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সাথে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখা গেছে।

জনসংযোগ কর্মকর্তারা স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের সাথে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে যোগাযোগ রা করে চলছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিবরা (পিএস) মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিদর্শনের চিঠি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় চলে যাচ্ছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন নির্বাচনী মতবিনিময় সভায়। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রা করছেন তারা।

নির্বাচনের ২৪ দিন বাকি থাকলেও এখনো মন্ত্রীরা তাদের একান্ত সচিব নিয়োগ করছেন। গত ২৫ নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর একান্ত সচিব পদে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারকে নিয়োগ করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী যতদিন এ পদ অলঙ্কৃত করবেন বা এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারকে ওই পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।

উৎসঃ   dailynayadiganta
print

LEAVE A REPLY