সিলেটে সিরিজ জয়ের উৎসব

বছরের ওয়ানডে যাত্রা শুরুটা হয়েছিল হোম অব ক্রিকেটে, শেষটা হল ওয়ানডে ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হওয়া প্রকৃতির মায়ায় ঘেরা অনিন্দ্যসুন্দর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। শুরু ও শেষে এক জায়গায় দারুণ মিল। ক্রিকেটের শেষ চাওয়া জয়ের স্বস্তিতে।

আশেপাশের দিগন্ত বিস্তৃত চায়ের বাগান আর টিলাগুলো তখন সন্ধ্যা রাতের অন্ধকারে ডুবে গেছে। কিন্তু পুরো শহর জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছে। হাসিমুখে ঘুরে ফেরার পথে এক কিশোরের প্লেকার্ড আরও ‘ফিনিক’ ছড়াচ্ছে। তাতে লেখা, ‘উই উইল মিস ইউ মাশরাফি।’

চিত্রাপারের সেই অদম্য কিশোরের স্বপ্নযাত্রা দেশের মাটিতে কী তাহলে সুরমার পাড়ে শেষ হল! কী হবে সেটা মহাকালই বলে দেবে। শুক্রবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য ছিল ১৯৯ রানের। অনায়াসেই আট উইকেটের জয়ে অগ্রহায়ণের শেষদিনে সিলেট ভেন্যুর ওয়ানডে অভিষেক রাঙিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের উৎসব করলেন মাশরাফিরা।

তামিম ইকবালের হার না-মানা ৮১* ও সৌম্য সরকারের ৮০ রানে দারুণ দুটি ইনিংসে ৬৯ বল হাতে রেখেই বছরের শেষ ওয়ানডেতে আট উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সাফল্যের কথা ধরলে অসাধারণ আরেকটি বছর। ২০১৫ সালের পর এটা দ্বিতীয় সেরা বছর। এ বছর ২০ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় ১৩টিতে। তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সবকটিতেই জয়। ২০১৫ সালে ১৮ ওয়ানডের ১৪টিতে জিতেছিল টাইগাররা। চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সবকটিতেই জয় ছিল সেবার।

সিলেটে বাংলাদেশের আগের দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। এবার সেটা হয়ে গেল সিলেটের চায়ের মতোই সুপেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে লড়লেন শুধু সেই শাই হোপ। তাকে এদিনও আউট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। পরপর দুটি সেঞ্চুরি।

সিলেটে তিন অঙ্কে গেলেন ছক্কা হাঁকিয়ে। কিন্তু এবার হোপের ১০৮* রানের ইনিংসটি বাঁচাতে পারল না ক্যারিবীয়দের। তিনি ছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন তিনজন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মারলন স্যামুয়েলসের ১৯। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান আসে অতিরিক্ত খাত থেকে।

ধুঁকতে ধুঁকতে নয় উইকেটে ১৯৮ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার নাকাল হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজে। শেষ টেস্টেও ক্যারিবীয়দের যমদূত হয়েছিলেন তিনি। ওয়ানডেতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও তাই। আউট হওয়া প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজনকে ফিরিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন এই অফ-স্পিনার।

মাত্র ২৯ রানে চার উইকেট নেন মিরাজ। রুবেল হোসেনের পরিবর্তে সাইফউদ্দিনের অন্তর্ভুক্তি এবং বোলিং আক্রমণে রদবদলে সফরকারীরা সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো দু’শর নিচে থেমে যায়।

জয়টা হাতের নাগালেই ছিল। সেটাকে আরও সহজ করে তোলেন তামিম ও সৌম্য। দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ১৩১ রানের জুটি। শেষদিকে সৌম্য অতি আক্রমণাত্মক না হলে হয়তো সেঞ্চুরি হয়ে যেত তামিমের।

প্রথম দুই ম্যাচে ছয়ে নেমে সুবিধা করতে না-পারা সৌম্য কাল তিনে নেমে মেরেছেন পাঁচটি ছক্কা। বল গ্যালারিতে পড়ার পর প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরেছে ‘সৌম্য, সৌম্য…’ রবে। গ্যালারি একেক সময় একেক ধ্বনিতে উত্তাল হয়েছে। কখনও মাশরাফি তো কখনও তামিম আবার কখনও সিলেট তো কখনও বাংলাদেশ ধ্বনিতে। ব্যাটিংয়ে শুরুর ছন্দটা ধরা দিয়েছে অবশ্য লিটনের সঙ্গে তামিমের ৪৫ রানের জুটিতে।

শুরুটা ভালো করে লিটন ফেরেন ২৩ করে। আগের ম্যাচের ঠিক ৫০ করে ফেরা তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি মিস হল প্রতিপক্ষের রান কম হওয়ায়। ১০৪ বলে নয় চারে ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষদিকে ১৪ বলে ১৬ করে তুলির শেষ আঁচড় টানেন মুশফিক। বাংলাদেশের পরবর্তী ওয়ানডে ম্যাচ আগামী বছর নিউজিল্যান্ড সফরে।

অভিনন্দন : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে আন্তর্জাতিক সিরিজ জেতায় জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পৃথক অভিনন্দন বার্তায় তারা ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদেরও অভিনন্দন জানান।

print

LEAVE A REPLY