কূটনীতিকরা যেভাবে মনিটরিং করবেন ভোট

শুধু ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন নয়, নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহের দিকে দৃষ্টি রেখেছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বন্ধুরাষ্ট্র ও জোটগুলো। অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের রাজনৈতিক অধিকার ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেছে দূতাবাসগুলো।

এ ছাড়া ভোট গ্রহণের দিন সরাসরি মাঠে গিয়ে প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণেরও প্রস্তুতি নিয়েছে ৯টি দূতাবাস। বাকিরা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক সংস্থার মাধ্যমে মূল্যায়ন করবে ভোট গ্রহণকে। তবে আগে-পরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সব দূতাবাসই বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে তাদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের। বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর প্রত্যাশা— রাজনৈতিক বিরোধ কাটিয়ে উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মতের প্রতিফলন ঘটিয়ে পছন্দমতো সরকার গঠনের সুযোগ করে দেবেন। তবে ক্রমেই বাড়তে থাকা সহিংসতার ঘটনায় বিদেশিদের মধ্যে নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণমূলক হয় কিনা- তা নিয়েও সংশয় আছে।

জানা গেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষকের কার্ড সংগ্রহের জন্য ঢাকায় থাকা ৫২টি দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনগুলোর মধ্যে ৯টি কূটনৈতিক মিশন থেকে ১০০ জন আবেদন জানিয়েছেন। এর মধ্যে ফ্রান্স ৪ জন, জাপান ৯ জন, স্পেন ১ জন, ডেনমার্ক ৩ জন, নরওয়ে ২ জন, জার্মানি ৮ জন, নেদারল্যান্ডস ৪ জন ও সুইজারল্যান্ডের ৬ জন পর্যবেক্ষকের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪টি বিদেশি সংস্থা থেকে ৩২ জন আবেদন জানিয়েছেন। সর্বোচ্চ ৬৫ জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন দূতাবাস ও ইউএসএইড যৌথভাবে। এর মধ্যে ৩২ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ৩৩ জন এ দেশে অবস্থানকারী দূতাবাসের কর্মকর্তা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্ক এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (এএনএফআরইএল)। এই সংস্থার আওতায় ৩২ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া নেপালের বেসরকারি সংস্থা দিপেন্দ্র ইনিশেয়েটিভ কেন্দ্র থেকে তিনজন আবেদন করেছেন। এ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পর্যবেক্ষকদের পাঠাচ্ছে না বলে আগেই ইসিকে জানিয়ে দিয়েছে। তবে ইইউর দুজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দেশে অবস্থান করছেন। তারা এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। অবশ্য ইসি সূত্রের খবর, ৯ দূতাবাস ও ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার হয়ে সরাসরি বিদেশ থেকে আসবেন ৯৭ জন। বাকি ৮১ জন ঢাকাস্থ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বিদেশি ও বাংলাদেশি কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, বিদেশি সংস্থার লোকাল স্টাফদের স্থানীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে জানানো হয়, আসন্ন নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন ৩-৪ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠাবে বলে নিশ্চিত করেছে। গত বুধবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা জানান। হাইকমিশন সূত্র বলছে, ভারতের সরকার পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুমতি চেয়েছে। এর আগে জার্মানি রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনজোল্জ জানান, নির্বাচনের ওপর তারা গভীরভাবে নজর রাখবেন। তিনি নিজেও পরিদর্শনে যাবেন। ঢাকাস্থ ইইউর রাষ্ট্রদূত রিনসে তিরিঙ্ক বলেন, পর্যবেক্ষক মিশন না পাঠালেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহের ওপর গভীর নজর রাখবে ইইউ। এরই মধ্যে দুই নির্বাচন বিশেষজ্ঞ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভালো স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা রয়েছেন। আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তারা সম্ভবত চমৎকার ভূমিকা রাখবেন।

ভিসা প্রার্থী বিবিসি-সিএনএনসহ অর্ধশতাধিক বিদেশি সাংবাদিক : নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক বাংলাদেশে আসার জন্য ভিসার আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৪০ জনের বেশি নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভিসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এর মধ্যে বিবিসি, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর পাশাপাশি ভারতীয় সাংবাদিকরাও আছেন। এর বাইরে সরাসরি ইসিতেও আবেদন জানিয়েছেন আটজন বিদেশি সাংবাদিক। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সটার্নাল পাবলিসিটি উইংয়ের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসতে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

২০০১ ও ২০০৮-এর চেয়ে বিদেশি পর্যবেক্ষক কম : আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবং বাংলাদেশে বিদেশিদের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বাড়লেও ২০০১ সাল ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তুলনায় এবার ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি কম থাকছে। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৫৯৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ২০০১ সালে ছিলেন বিদেশি ২২৫ জন পর্যবেক্ষক। সবচেয়ে কম পর্যবেক্ষক ছিলেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে, তখন মাত্র চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন বাংলাদেশে।

উৎসঃ   বি প্র
print

LEAVE A REPLY